Showing posts with label Mystery. Show all posts
Showing posts with label Mystery. Show all posts

Tuesday, August 7, 2018

The SPITZER-"অদম্য স্পিটজারের গল্প"

Spitzer Space Telescope 

অদম্য স্পিটজারের গল্প!

ট্রাপিস্ট -১  স্টার সিস্টেমের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? হ্যাঁ, এই স্টার সিস্টেমই সাম্প্রতিক সময়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মনে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে! ট্রাপিস্ট-১ কে কেন্দ্র করে যে ৭টি গ্রহ ঘুরছে, তার মধ্যে ৩টিই রয়েছে হ্যাবিটেশনাল জোনে। ফলে এখানে সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে কোনো প্রাণের কিংবা মানবজাতির ভবিষ্যৎ আন্তঃনাক্ষত্রিক যাত্রার একটি গন্তব্য হতে পারে স্টার সিস্টেম।

এই আবিষ্কারের নেপথ্যে যে মহানায়ক ছিল, তার নাম স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপ! ৭২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ২০০৩ সালের ২৫ আগস্টে নাসার গ্রেট অবজারভেশান প্রোগ্রামের ৪র্থ এবং শেষ মিশন হিসেবে স্পিটজারকে ফ্লোরিডার কেপ কেনারেভাল স্পেস সেন্টার থেকে ডেল্টা-২ রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হয়।

অবলাল রশ্মি ক্যাপচার করে তাপীয় উৎস, অবলাল রশ্মি ( infrared ray ) নির্গত করে এমন মহাজাগতিক বস্তুর বর্ণালীবীক্ষণ করা এবং ছবি তোলা ছিল ১৮৭৭ পাউন্ডের টেলিস্কোপটির প্রধান কর্মযজ্ঞ! সাধারণত মহাকাশ থেকে অবলাল রশ্মি পৃথিবীতে আসতে আসতে বায়ুমণ্ডলেই বেশিরভাগ শোষিত হয়ে যায়। তাই স্পিটজারের মতো স্পেস টেলিস্কোপ তৈরি করা জ্যোতির্বিদদের কাছে খুবই দরকারি ছিল।

নাসা ঐতিহ্যগতভাবেই প্রত্যেকটা স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ কোনো বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানীর নামে করে। স্পিটজার স্পেস টেলিস্কোপের নামকরণ করা হয় জ্যোতির্বিদ লেম্যান স্পিটজারের নামে। ১৯৪০ সালের দিকে লেম্যান স্পেস টেলিস্কোপের ধারণা দেন। রকেট সায়েন্স এবং জ্যোতির্বিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই প্রতিভাবান!

স্পিটজারের মিশন ব্যাপ্তিকালের পরিকল্পনা করা হয় ২.৫ থেকে ৫ বছরের জন্য। প্রাথমিক মিশন চলে ৫ বছর, ৮ মাস, ১৯ দিন পর্যন্ত! স্পিটজারের অনুসূর ও অপসূর যথাক্রমে ১.০০৩ এবং ১.০২৬ জ্যোতির্বিদ্যার একক।

ইনফ্রারেড অ্যারে ক্যামেরা, ইনফ্রারেড স্পেক্ট্রোগ্রাফ এবং মাল্টিব্যান্ড ইমেজিং ফটোমিটার  নিয়ে স্পিটজারের কাজ করার জন্য প্রয়োজন ছিল প্রায় -১৬৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা বজায় রাখতে ব্যবহৃত হতো তরল হিলিয়াম গ্যাস। ১৫ মে, ২০০৯ সালে তরল হিলিয়ামের সরবরাহ শেষ হয়ে যায়। মহাবিপদ! এদিকে বিজ্ঞানীদেরও স্পিটজার মিশনের ব্যাপ্তিকাল প্রসারিত করবার ইচ্ছে। 
জ্যোতির্বিদরা অসাধারণ একটি পরিকল্পনা করলো। পরিকল্পিত এই মিশনের নাম দেওয়া হলো স্পিটজার ওয়ার্ম মিশন। উপযুক্ত তাপমাত্রার অভাবে আগেই বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ অচল হয়ে গিয়েছিল। তবে নিম্ন তাপমাত্রায় তারা দুটি ইনফ্রারেড অ্যারে ক্যামেরাকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছিল। 
প্রায় সকল গ্রহই সব ধরণের আলো শোষণ করলেও বেশিরভাগ বিকিরণ করে অবলোহিত আলোয়। তাই এক্সোপ্ল্যানেট হান্টে স্পিটজার দারুণভাবে সফল হয়! এছাড়াও গ্যালাক্সি, নেবুলা, নক্ষত্রদের অবলাল আলোয় অপূর্ব ছবি তুলে ইনফ্রারেড এস্ট্রোনমিতে ব্যাপক অবদান রাখে স্পিটজার।

স্পিটজার আমাদের সৌরজগতের বাইরের অন্য স্টার সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য এক্সোপ্ল্যানেটের ছবি তুলতে সক্ষম হওয়ায়  স্পেস টেলিস্কোপদের ইতিহাসে এটি  অন্যতম বিস্ময়! স্পিটজারের আগে অন্য টেলিস্কোপগুলো কেবল ট্রানজিট সিস্টেম ব্যবহার করে গ্রহ শনাক্ত করা গেছে, কিন্তু ছবি তোলা যায়নি। স্পিটজার এই কাজ প্রথমবারের মতো করে প্লানেটারি এস্ট্রোনমিতে অভাবনীয় অবদান রেখেছে। ২০০৫ সালে স্পিটজার একটি এক্সোপ্ল্যানেটের চারপাশে সৃষ্টি হওয়া নতুন একটি বলয় শনাক্ত করে, যা গ্রহের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের যথেষ্ট ভাবায়। ২০০৬ সালে স্পিটজার একটি এক্সোপ্ল্যানেটের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার ম্যাপ তৈরি করতে সক্ষম হয়। 
মহাবিশ্বের রক্তিম সরণের কারণে বিগ ব্যাংয়ের প্রায় ১০ কোটি বছর পরের একটি তারার আলো শনাক্ত করতেও সক্ষম হয় স্পিটজার স্পেস অবজারভেটরি!

স্পিটজারের পর বিজ্ঞানীরা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহী হয়ে পড়ে। ফলে নির্মিত হয় কেপলার স্পেস টেলিস্কোপ। এক্সোপ্ল্যানেট শিকারে সর্বোচ্চ সফল স্পেস টেলিস্কোপ বলা হয় কেপলারকে। পেজের স্পেস টেলিস্কোপ সিরিজের ১ম পর্ব ছিল এই কেপলার স্পেস টেলিস্কোপকে নিয়েই। 

ওহ...  প্রথমেই তো বলেছিলাম ট্রাপিস্ট-১ স্টার সিস্টেমে অবস্থিত গ্রহগুলোর কথা। এই স্টার সিস্টেমটি স্পিটজার আবিষ্কার করেছিল ২০১৬ সালে। ২০০৯ সালে যে টেলিস্কোপের আয়ু শেষ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিল, সেই টেলিস্কোপটি ২০১৬ সালে এসে এতো বড় একটি আবিষ্কার করলো। সকল বাঁধাকে উপেক্ষা করে অদম্য স্পিটজার এখনো কাজ করে চলছে মহাকাশ শিকারে!

Here's Some PDF Books About Spitzer Space Telescope.....





Friday, June 1, 2018

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্ধকার ইতিহাস!

আমাদের চারপাশের ঝাঁ চকচকে সভ্যতার পেছনেই রয়েছে নিকষ অন্ধকার। এবং আশ্চর্যজনকভাবে এই আলোকোজ্জ্বল সভ্যতা বিনির্মাণে সেই অন্ধকারটুকুর অবদানও কম নয় মোটেই।তাই আজ জানবো চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে রচিত হওয়া অন্ধকার ইতিহাস এর গল্প!


অক্টোবর ১০, ১৮২৪। লন্ডনের হাসপাতালের বিছানায় নিথর হয়ে শুয়ে থাকা ভদ্রলোক টের পেলেন কান্নার আওয়াজ; সেইসাথে কানে গেল নার্সের অস্পষ্ট উচ্চারণ, "তিনি আর নেই।" একটু পরেই তিনি অনুভব করলেন কবরে নামানো হচ্ছে তার কফিন, মাটি দেয়া হচ্ছে তার ওপর। তিনি প্রাণপণে চেষ্টা করলেন কিছু করার। কিন্তু না, তার দুর্বল শরীর আর এঁটে থাকা কফিন কোনো সুযোগই দিল না তাকে। এবার তিনি ভাবলেন, হয়তো সত্যিই মরে গেছেন।

ঠিক একই সময়ে রাতের অন্ধকারে শবযাত্রা অনুসরণ করছিল দুজন লোক, কালো কাপড়ে সর্বাঙ্গ মোড়ানো। অন্তেষ্টিক্রিয়া শেষে জায়গাটা ফাঁকা হতেই কাজে নেমে পড়লো তারা। ১৫ মিনিটের মধ্যেই কফিন থেকে বের করে আনলো দেহটা।

ব্যবচ্ছেদ কক্ষে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে গতরাতে আনা নতুন দেহটা রাখা হলো টেবিলে। চারপাশে উৎসুক চিকিৎসা বিজ্ঞানের নবীন শিক্ষার্থীরা। ডেমনস্ট্রেটরের ছুরিটা শবের চামড়া ভেদ করে পাঁজরে আঘাত করতেই বিপত্তিটা ঘটলো। মৃতের সারা শরীরে বিদ্যুতের মতো কম্পন খেলে গেল, সেই সঙ্গে ভয়ঙ্কর চিৎকার। ব্যাপার দেখে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে গেল ব্যবচ্ছেদ কক্ষের শিক্ষার্থীরা।

না, এটা কোনো হরর মুভির কাহিনী নয়। ঘটনাটা সম্ভবত সত্যিই ঘটেছিল লন্ডনে, ১৮২৪ সালে এবং বর্ণনাটা সেই জীবন্ত লাশ হয়ে যাওয়া লোকটার জবানীতেই পাওয়া যায়। আর যেহেতু মৃত্যু নিশ্চিত হবার কোনো আধুনিক পদ্ধতি তখন ছিল না, তাই এমন ভুল মাঝে মধ্যেই ঘটতো। তবে আমার আজকের লেখার বিষয়বস্তু সেটা না, বরং আজকের বিষয় সেই দুজন লোক, যারা শবযাত্রার পিছু নিয়েছিল এবং মৃতদেহটি বিক্রি করেছিল কোনো এক মেডিকেল কলেজের এনাটমি বিভাগে।

অষ্টাদশ এবং ঊনবিংশ শতাব্দতে লন্ডন এবং তার আশেপাশে বেসরকারি মেডিকেল স্কুলের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসব স্কুলের জনপ্রিয়তার কারণ ছিল মূলত সত্যিকার মানবদেহ ব্যবচ্ছেদের সুযোগ। কিন্তু সমস্যা হলো সে সময় সবার মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদের অনুমতি ছিল না। কেবল মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের দেহই সরকারি মেডিকেল স্কুলগুলোতে দেয়া হতো। সপ্তদশ শতকের বিখ্যাত এনাটমিস্ট ওয়ার্নার রলফিংক একাজে এত প্রবাদতুল্য ছিলেন, যে অপরাধীরা 'rolfincked' হবার হাত থেকে বাঁচতে চাইতো। সে যাই হোক, মৃতদেহের চাহিদা বাড়লেও সে সময় মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছিল। ফলে বাধ্য হয়েই এনাটমির শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা বেছে নেন এক অবৈধ পথ। সেই সঙ্গে রচিত হয় অন্ধকার জগতের নতুন অধ্যায়, শব বাণিজ্য।

শবচোরদের লাশ চুরির পদ্ধতি ছিল মূলত দুরকম। সরাসরি কবর খুঁড়ে লাশ বের করা। অথবা কবর থেকে ১৫/২০ ফুট দূরে গর্ত করে সেখান থেকে সুরঙ্গ তৈরি করে লাশ বের করা। এর একটা সুবিধা ছিল খুব ভালো করে খেয়াল না করলে কারো তেমন সন্দেহ হতো না। তবে তাদের পরিচয় সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়না। তারা বিভিন্নজনের কাছে বিভিন্ন পরিচয়ে ব্যবসা করতো। তাদের মধ্যে জোসেফ ন্যাপল নামক একজন নিয়মিত ডায়েরি রাখত। তার ডায়েরির ২টি পৃষ্ঠা এরকম--

13th January 1812
Took 2 of the above to Mr Brookes & 1 large & 1 small to Mr Bell. Foetus to Mr Carpue. Small to Mr Framton. Large small to Mr Cline. Met at 5, the Party went to Newington. 2 adults. Took them to St Thomas’s.
26th August 1812
Separated to look out, the party met at night…Willson, M. & F. Bartholm, me, Jack and Hollis went to Isl [ingto]n. Could not succeed, the dogs flew at us, afterwards went to [St] Pancr [a]s, found a watch planted, came home.

সেসময় লাশ চুরির ঘটনা এতটাই নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে চুরির হাত থেকে প্রিয়জনের দেহ বাঁচাতে নানারকম ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়। কবরস্থানগুলোতে পাহারা বসানো হয়, কাঠের কফিনের বদলে লোহার কফিন ব্যবহার শুরু হয়, কবরের ওপর লোহার কাঠামো বসানো হয়। অনেক গোরস্থানে 'মর্ট হাউস' নামে বিশেষ জায়গা ছিল, যেখানে মৃতদেহগুলো পঁচে যাবার আগ পর্যন্ত পাহারা দিয়ে রাখা হতো। কিছু ব্যবস্থা ছিল আরো ভয়ঙ্কর। কবরস্থানে তৈরি করা হতো 'বুবি ট্র্যাপ', অনেকটা ল্যান্ড মাইনের মতো; আর কিছু কিছু কফিনে থাকতো স্প্রিং লোডেড গান, কফিন খুললেই ছুটে যেত গুলি।
না, এবার আর চুরি নয়। খুন। এই অন্ধকার ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮২৭ সালে, উইলিয়াম বার্ক ও উইলিয়াম হেয়ারের হাতে।বার্ক স্কটল্যান্ডে ঝুট কাপড়ের ব্যবসা করতো আর হেয়ার তার বাড়ি ভাড়া দিত। হেয়ারের একজন ভাড়াটে হঠাৎ মারা গেলে তারা দুই বন্ধু তার দেহ বিক্রি করে ভাড়ার টাকা উসুল করার পরিকল্পনা করে। দেহটা তারা ৭ পাউন্ডের বিনিময়ে বিক্রি করেছিল এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জন ডা. রবার্ট নক্সের কাছে। ডা. নক্স তাদের বলেছিলেন পরবর্তীতে আরো দেহের খোঁজ পেলে তাঁর সাথে যোগাযোগ করতে।

অফারটা লুফে নিয়েছিল তারা। আরো একজন ভাড়াটে মহিলা কলেরায় আক্রান্ত হলে তারা তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং তার দেহ ডা. নক্সের কাছে বিক্রি করে ১০ পাউন্ডে, যেহেতু দেহটি অক্ষত ছিল। ১৮২৮ সালে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত তারা দুজন মিলে মোট ১৬ টি দেহ ডা. নক্সকে সরবরাহ করেছিল। আরো একটা দেহ লুকানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাদের বাড়িতে। তারা মূলত তাদের ভাড়াটেদের এবং কিছু বাইরের লোককে ঘুমন্ত অবস্থায় বা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করতো, পদ্ধতিটার নামই পরবর্তীতে হয়ে যায় 'Burking'। এলাকায় রীতিমতো আতংক তৈরি হয়েছিল তাদের কর্মকাণ্ডে।

হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডা. নক্সের সম্পৃক্ততা সামনে চলে আসে। পরে অবশ্য তাঁকে অভিযোগ থেকে খালাস দেয়া হয়। উইলিয়াম বার্ককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয় আর হেয়ার কিছুদিন পর জেল থেকে পালিয়ে বেঁচে যায়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বার্কের দেহটি এডিনবারা বিশ্ববিদ্যালয়কে দেয়া হয় ব্যবচ্ছেদের জন্যে। আর ব্যবচ্ছেদটি হয়েছিল পাবলিক ডিসেকশন থিয়েটারে, জনগণের উপস্থিতিতে। তার রক্ত ব্যবহার করে একটা চিঠি লেখা হয়, তার কঙ্কাল প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয় আর তার চামড়া দিয়ে একটা বই বাঁধাই করা হয় আর একটা ওয়ালেট তৈরি করা হয়। বার্কের ডেথমাস্ক ও সেই ওয়ালেট এডিনবরার Surgeons’ Hall Museum এ সংরক্ষিত আছে।

১৮৩১ সালে 'লন্ডন বার্কার' নামে আরো একটা গ্রুপ ধরা পড়ে, যারাও একই রকম কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল। সমসাময়িক কালে আরো সাতটি চক্র ধরা পড়ে, যারা লাশ চুরির সাথে জড়িত ছিল। ধারণা করা হয় প্রায় দুই শতাধিক চক্র একাজে সম্পৃক্ত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে থাকে, যেহেতু লাশ চুরির শাস্তি ছিল খুব সামান্য কিছু জরিমানা বা ক'মাসের জেল। জনগণ ফুঁসে উঠতে থাকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে। অবশেষে ১৮৩২ সালে পার্লামেন্টে 'Anatomy act' পাস হয়, যেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীদের পাশাপাশি বেওয়ারিশ লাশ ও স্বেচ্ছায় দানকৃত দেহ ব্যবচ্ছেদের অনুমতি দেয়া হয়। ফলে আগের তুলনায় বৈধ মৃতদেহের সরবরাহ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই সাথে কমে যায় শবচোরদের দৌরাত্ম্য।

শববাণিজ্য প্রাথমিকভাবে যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডে শুরু হলেও তা ছড়িয়ে পড়েছিল বিভিন্ন দেশে। 

মৃত্যুর ফেরিওয়ালা: আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ
শবদেহ ব্যবচ্ছেদ আমেরিকায় আইনত ও সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। এনিয়ে ডাক্তারদের বিভিন্ন সময় জনগণ ও সরকারের রোষানলে পড়তে হয়। ১৭৬২ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম শিপেন ব্যবচ্ছেদের ওপর একটি লেকচার দিয়েছিলেন। পরে ১৭৬৫ সালে একটা গীর্জার কবরস্থান থেকে লাশ চুরি গেলে তাঁকে দায়ী করে উত্তেজিত জনতা তাঁর বাড়িতে আক্রমণ করে। নিউইয়র্কের সিটি হাসপাতালের ডিসেকশন রুমের পাশে খেলার সময় একদল ছেলে একজন মহিলার মৃতদেহ দেখতে পায়, যেটা ছিল তাদের এক বন্ধুর মায়ের, যিনি সম্প্রতি মারা গিয়েছেন। ঘটনাটি ছেলেটির বাবাকে জানানো হলে সে দলবলসহ হাসপাতালে হামলা করে, যেটি Doctors' Riot নামে পরিচিত। জনগণকে শান্ত করার জন্য মৃতদেহের খোঁজে ডাক্তার, প্রফেসর ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করা হয় ও অনেককে নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়। কিছুদিন পর জনগণ সেখানেও হামলা করে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ডাক্তারদের সুরক্ষিত রাখার নির্দেশ দিলে হামলাকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয় এবং এতে ৩ জন হামলাকারী নিহত হয়। 
.
১৭৭০ সালে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক জন ওয়ারেন "Spunkers" নামে একটি গুপ্ত এনাটমি সোসাইটি তৈরি করেন, যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃতদেহ সংগ্রহ করে ব্যবচ্ছেদ করতেন। ১৮২৪ সালে ডা. চার্লস নলটন অবৈধ ব্যবচ্ছেদের দায়ে গ্রেফতার হন। দু'মাস পর ছাড়া পেয়ে তিনি জনগণের মধ্যে মরণোত্তর দেহদানের বিষয়ে কুসংস্কার দূর করার জন্য ডাক্তারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
.
লাশ চুরির বিষয়ে ডাক্তারদের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ তখনো অব্যাহত ছিল। ১৭৬৫ থেকে ১৮৮৪ পর্যন্ত ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ওপর প্রায় ২৫টি হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে বাদ যায়নি মেরিল্যান্ড কিংবা ইয়েলের মতো নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও। সবকিছু মিলিয়ে একটা আইন প্রণয়ন জরুরি হয়ে পড়েছিল। পরে যুক্তরাষ্ট্রে 'Anatomy act' বা 'Bone bill' পাস হয়।
.
ইতিহাসের শেষ অংশটা আমাদের নিজের। বিগত প্রায় ২০০ বছর ধরে বিশ্বের শব ও কঙ্কাল বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত আছে কলকাতা, যদিও ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার মানবকঙ্কাল রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে। ১৮৫০ এর দশকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ বছরে প্রায় ৯০০ কঙ্কাল প্রক্রিয়াজাত করতো বিভিন্ন দেশে রপ্তানির জন্য। ১৯৮০'র দশকে কেবল পশ্চিমবঙ্গেই বছরে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের শববাণিজ্য হত। ২০০৭ সালে পুলিশ বর্ধমান থেকে শতাধিক কঙ্কালসহ একটি চক্রকে আটক করে, যারা জেলার বিভিন্ন মুসলিম কবরস্থান থেকে লাশ চুরি করতো। ২০০৯ সালে বিহারে কামাল শাহ নামে আরো একজন গ্রেপ্তার হয় ১০টি মাথার খুলি ও ৬৭টি পায়ের হাড়সহ। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা কঙ্কালগুলো মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি পাচার করত ভারত, নেপাল ও ভুটানের বৌদ্ধ মঠগুলোতে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খুলিগুলো পানপাত্র আর ফিমারগুলো 'Blow-horn' হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া ভারতীয় তান্ত্রিক সমাজেও রয়েছে মানবকঙ্কালের ব্যাপক চাহিদা। 
.
পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও আসাম, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের অনেকগুলো চক্র কঙ্কাল চোরাচালানের সাথে জড়িত। ধারণা করা হয় প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কঙ্কাল চীন, নেপাল, বাংলাদেশ, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হয়। ভারতে কঙ্কালগুলো গড়ে প্রায় ৩০০ ডলারে বিক্রি হয়, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তার দাম হয় প্রায় ৭০০ থেকে ১৫০০ ডলার। অবশ্য দাম নিয়ে মতভেদ রয়েছে। গতবছর এপ্রিলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গ থেকে ১৫টি কঙ্কালসহ দুজন গ্রেপ্তার হবার পর একটি সংবাদমাধ্যম রাজশাহীর একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে জানায় ভারত থেকে পাচার হয়ে আসা অস্থিগুলো মাত্র ৪/৫ হাজার টাকায় সংগ্রহ করা হয়।
.
বাংলাদেশের শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ মেডিকেল শিক্ষার্থী পুরনো কঙ্কাল ব্যবহার করেন। অল্প কিছু শিক্ষার্থী কৃত্রিম কঙ্কাল ব্যবহার করেন। আর বাকিরা বিভিন্ন মেডিকেল স্টোর, মেডিকেল কলেজের ডোম বা অন্যান্য চোরাচালান চক্রের কাছ থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করেন। প্রতিবছর ২০০-৩০০ কঙ্কাল দেশের বাইরেও পাচার হয়। সে হিসেবে দেশে মোট কঙ্কালের চাহিদা বছরে প্রায় সাড়ে তিন হাজার, যার বেশিরভাগই আসে ভারত থেকে পাচার হয়ে। বাকিগুলো বিভিন্ন কবর থেকে বা মেডিকেল কলেজ মর্গের বেওয়ারিশ লাশ থেকে সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশের আইন অনু্যায়ী মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা মৃতদেহের ব্যবসা নিষিদ্ধ। কেবল স্বেচ্ছায় দানকৃত দেহই শিক্ষা বা গবেষণাক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। সে হিসেবে আমাদের প্রায় সবার কঙ্কালই অবৈধ। :-) এবিষয়ে তাই একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। 

Thursday, May 31, 2018

রেললাইনের মাঝে পাথরের টুকরা থাকার কারণ!!!

রেললাইনের মাঝে পাথরের টুকরা থাকার কারণ!!!কি,জানা আছে?😀


রেলপথে ভ্রমণ করা সবসময় মজাদার হয় কারণ আপনি পুরো ভ্রমণ জুড়ে আশ্চর্যজনক দৃশ্য দেখতে পান, নদী বা বিশাল ময়দান গুলো সবুজ বৃক্ষ দ্বারা পরিপূর্ণ ইত্যাদি দেখা যায়, কিন্তু রেলওয়ে ট্র্যাকগুলিকে ভুলে যাওয়া উচিত নয়। তারা সবসময় পাথরের টুকরা দিয়ে আবৃত থাকে, এটি কোথাও কোথাও নয়, সবসময় সব জায়গায় দেখা যায়। সবাই এই রেল ট্র্যাক অতিক্রম করতে ভালবাসে কিন্তু এই এব্রোখেব্রো খচিত পাথরের উপর হাঁটা খুব আরামের নয়।

এটা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে একটি রেল ট্র্যাক অতিক্রম অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বস্তুত, 200 লোকের মধ্যে 1 জন তাদের জীবন হারায় এভাবে, তবে এখনও, আমরা যাই করি না কেন, আমি নিশ্চিত যে আমরা অন্তত একবার আমাদের জীবনে একটি রেল ট্র্যাক পার হয়েছি, কিন্তু এটি এখনও খুব বেশী ঝুঁকিপূর্ণ, এবং সত্যিই আমরা এর মূল্য দেই না।

যাইহোক মুল বিষয়ে ফেরা যাক, আপনি কখনও ভেবেছেন এই খচিত পাথরের খন্ড গুলো রেললাইনে রাখা হয় কেন ?যদি জানতে চান তাহলে নীচের এই পয়েন্টগুলি পড়ুন।
এটা কি কখনও তোমার মনে এসেছিল?
ট্রেন লাইন গুলির মাঝখানে এই চুনযুক্ত পাথরগুলিকে বলা হয় নুড়ি। এটি মূলত লাইনের বেড তৈরির জন্য ব্যবহৃত হয় যার উপর রেললাইন শুয়ে থাকে। লাইনের স্লিপার গুলোকে স্থায়ী ও মজবুত ভাবে টিকিয়ে রাখতে ব্যবহৃত হয় এই পাথর খন্ড গুলি। এখানে ব্যাবহার হয় – ভাঙা পাথর, নুড়ি, বালি, ইট বেল্ট, সিণ্ডার ইত্যাদি।
ট্রেন লাইন গুলির মাঝখানে এই চুনযুক্ত পাথরগুলিকে বলা হয় ব্যালেস্ট
কাঠের রেল বন্ধন গুলিকে ঠিক জায়গায় বসিয়ে রাখতে এই খচিত পাথর ব্যাবহার হয়
এই কাঠের স্লিপার্স গুলোকে দৃঢ় ভাবে সংযুক্ত রাখতে সাহায্য করে
কিন্তু এই পাথর মসৃণ না, এগুলির ধারালো ধার আছে যাতে কাঠের beams একে অপরের উপর স্লাইড বা পিছলে না যায়
পাথরগুলি মাটির কম্পন, ওজন পরিবর্তনের সুবিধা প্রদান করে এবং বৃষ্টিপাতের পর ট্র্যাকগুলির থেকে জল নিষ্কাশন করতে সাহায়্য করে
এই খচিত পাথর মাটির ভিত্তি গঠন করে, যা মাটির বৃদ্ধিকে উচ্চতর করে তোলে যাতে ট্র্যাকগুলি বন্যা থেকে রক্ষা পায়
এটি তৃণশয্যা এবং গাছপালা যা দ্রুত ট্র্যাককে ঢেকে দিতে পারে, সেগুলির থেকেও রক্ষা করে
একটি পাথর খন্ড খারাপভাবে কাজ না করলে, অন্য পাথর সঠিকভাবে কাজ করে বিপদ নিস্কাসন করে; এইভাবে কোনো পাথর খন্ড খারাপভাবে কাজ না করলে পরিবর্তে অন্য গুলো কাজ করে
অতএব, এই খচিত পাথর গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি আবেদন: যারা রেললাইন গুলি পারাপার করেন, তারা জীবনের সাথে খেলা করবেন না! সাবধান থাকুন, সুস্থ থাকুন!

Sunday, May 6, 2018

ENVIRO BATTERY(কিভাবে আলু কিংবা লেবু ব্যবহার করে লাইট জ্বালানো যায়?)

কিভাবে আলু কিংবা লেবু বব্যবহার করে লাইট জ্বালানো যায়!


এটি অদ্ভুত শুনালেও আসলে কিন্তু সত্যি এটা কাজ করে।তাহলে শুরু করা যাক কিভাবে এটি কাজ করে তা নিয়ে আলোচনা করব।


  একটি প্রাথমিক ভোলটেইক সেলে সালফিউরিক অ্যাসিডের তরল দ্রবণ ব্যবহার করা হয় যার মধ্যে কপার ও জিঙ্ক প্রতিটির একটি করে প্লেট ডুবানো হয়।  এর ফলে সালফিউরিক অয়্্যাসিডের দ্রবণে জিঙ্ক প্লেট থেকে কপার প্লেটে ইলেক্ট্রনের স্থানান্তরের কারণে সেলে বিদ্যুৎ তেরি হয়। আলু বা লেবু কপার আর জিঙ্কের স্ট্রিপের মধ্যবর্তী তরল সালফিউরিক অ্যাসিডের দ্রবণের মত কাজ করে। যা আলু থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়।
এটা ভালো করে পড়ে নাও...তারপর বানানো শুরু করো!

এর জন্য আপনার প্রয়োজন হবেঃ-

১। ৮টি মাঝারি মাপের আলু কিংবা লেবু।
এগুলো দিয়েও কাজ চলতে পারে!পরিক্ষিত

২। কপারের ৮টি স্ট্রিপ, প্রত্যেকটি ৫সে:মি: X১সে:মি:।

৩।জিঙ্কের  ৮টি স্ট্রিপ, প্রত্যেকটি ৫সে:মি: X১সে:মি:।

৪। তামার তার।

৫। হোল্ডার সহ একটি ৫ ভোল্টের বাল্ব।
আলুর ক্ষেত্রে

লেবুর ক্ষেত্রে

৮টি আলু কিংবা লেবু নিন এবং প্রত্যেকটি আলু/লেবুর প্রান্তে জিঙ্কের একটি স্ট্রিপ ঢোকান।একটি টেবিলে আলু গুলো সাজিয়ে রাখুন যাতে একটি অন্যটির সংষ্পর্শে  না আসে। ঠিক একইভাবে কপারের স্ট্রিপ গুলো আলু/লেবুর অন্যপ্রান্তে লাগিয়ে নিন। জিঙ্কেরর স্ট্রিপের সাথে ততামার ততারটি লাগিয়ে নিন ঠিক একই ভাবে কপারের স্ট্রিপেরর সাথে তামার তার লাগিয়ে নিন। এখন কপারের স্ট্রিপ এবং জিঙ্কের স্ট্রিপের সাথে বাল্বটি যুক্ত করুন। দেখবেন বাল্বটি তৎক্ষনাৎ জ্বলে ওঠবে।

তবে বাল্বটি সীমিত সময়ের জন্য জ্বলবে।


Three Idiots(সোনাম ওয়াংচুক-The Motivational Figure)!😀

থ্রি ইডিয়টস" মুভিতে আমির খানের আসল নাম থাকে ফুংসুখ ওয়াংরু।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই চরিত্রটি বাস্তবেই আছে এবং লাদাখে ওইরকম একটা স্কুল আছে যেখানে কোন বই-পুস্তক পড়ানো হয়না, সব হাতে কলমে শিখানো হয়। 
SECMOL এডুকেশন মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা এই ভদ্রলোকের নাম Sonam Wangchuk (সোনাম ওয়াংচুক), মুভিটি তার জীবন থেকেই বানানো। 

সবচেয়ে বড় মজার ব্যাপারটি হল, ওই স্কুলে ভর্তি হতে হলে অবশ্যই ম্যাট্রিকে ফেল করতে হবে, অনেকেই বলে থাকেন University of Failures। 

এই স্কুলের ছাত্রদের আশ্চর্য রকমের সব আবিস্কার... ওরা মাটি দিয়ে এমনভাবে স্কুল বানায় বাইরে যখন মাইনাস ১৫ডিগ্রি সে. ভিতরে তখন প্লাস ১৫ ডিগ্রি সে. থাকবে। গ্রীষ্মে লাদাখের মতো বিরান অঞ্চলে ধূ ধূ মরুভূমি, পানি পাওয়া খুব মুশকিল। গরমে পানি পাওয়ার জন্য সাধারণ পাইপ দিয়ে ‘আইস স্টুপা’ তৈরি করেছেন সোনাম ওয়াংচুক। দেখতে বরফের টিলার মতো, যা দিয়ে সহজে গ্রিন হাউজ ইফেক্ট দূর করা যায়। তিন চারবার ফেল করা ছাত্ররা কেউ আজ বিশ্ব সেরা সাংবাদিক, ফিল্মমেকার, স্বনামধন্য উদ্যক্তা। এমনকি লাদাখের শিক্ষামন্ত্রী যে ম্যাট্রিকে পাঁচবার ফেল করে পরে The Himalayan Institute of Alternatives, এই স্কুলে ভর্তি হয়েছিলো।
Hahaha....Just Kidding!
সাধারণত আমরা আশায় থাকি কবে স্কুল ছুটি হবে আর এই স্কুলের বড় সাজা হলো এক সপ্তাহর স্কুল ছুটি! স্কুলটা একটা দেশের মতো। ছাত্ররা স্কুল পরিচালনা করে, নেতৃত্ব তৈরি করে, রেডিও স্টেশন সম্প্রচার করে, নিউজপেপার ছাপায় এমনকি নিজেদের খাবার নিজেরাই চাষ করে উৎপন্ন করে। সেগুলো বাজারে বিক্রি করে অর্থায়ন যোগায় আবার বছর শেষে ঘুরতেও যায়। এর মাধ্যমে ওদের অর্থনীতি, ভূগোল, জীববিজ্ঞান শেখা হয়। শিক্ষা নিয়ে রেভুল্যুসন করে সফল হওয়া এই ইঞ্জিনিয়ারের স্বপ্ন একটি ইউনিভার্সিটি করা, সেই ভার্সিটির নাম হবে ‘Doers University’, যেখানে কাজ করা হবে আবিস্কার হবে কিন্তু কোন পড়ালেখা হবেনা। ভারত-পাকিস্তান নিয়মিত যুদ্ধ নিয়ে তার মন্তব্যঃ "শিক্ষাই একমাত্র পরিবর্তন আনতে পারে।" 

সোনাম ওয়াংচুক স্বপ্ন দেখেন শুধু লাদাখ নিয়ে না পুরো বিশ্ব নিয়ে।সোনাম ওয়াংচুক এক অনুপ্রেরণার ভাণ্ডার।

মহাকাশ সম্পর্কে ১০টি অবাক করা তথ্য!

মহাকাশ সম্পর্কে ১০টি অবাক করা তথ্য!

THE MYSTERIOUS SPACE!

১. মহাকাশ সম্পূর্ণ নিঃশব্দ। তার কারণ মহাকাশে কোনও বায়ুমণ্ডল নেই। কাজেই শব্দ গমনের কোনও মাধ্যমও নেই।


২. মহাকাশে একটি নক্ষত্র রয়েছে যার উপরিতলের তাপমাত্রা মাত্র ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারাটির নাম WISE 1828+2650. এটি পৃথিবী থেকে ৪৭ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সূর্যের উপরিতলের তাপমাত্রা ৫৭৭৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

৩. শনির বৃহত্তম উপগ্রহ টাইটা্নে মানুষ তার হাতের দু’পাশে দু’টো ডানার মতো পাতলা চামড়া লাগিয়ে অনায়াসেই উড়ে বেড়াতে পারে। কারণ বায়ুমণ্ডলের ঘনত্ব সেখানে অত্যধিক আর মাধ্যাকর্ষণ অত্যন্ত কম। অবশ্য এই কাণ্ডটি কেবল তত্ত্বগতভাবেই সম্ভব।

৪. সৌরমণ্ডলের মোট ভরের ৯৯ শতাংশই দখল করে রেখেছে সূর্য।

৫. চাঁদের মাটিতে মানুষের পায়ের ছাপ আগামী ১০ কোটি বছর রয়ে যাবে সেখানে। কারণ চাঁদে বায়ুমণ্ডল বা জল নেই, ফলে সেই চিহ্ন মুছে যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই কোনও।

৬. মহাকাশ থেকে সূর্যকে হলুদ নয়, সাদা দেখায়। আসলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের ফোটন কণা বিচ্ছুরিত হয়ে যায়, ফলে সূর্যের দীর্ঘতর দৈর্ঘ্য সম্পন্ন হলুদ, কমলা আর লাল আলোকরশ্মিগুলিই কেবল আমাদের চোখে ধরা পড়ে। মহাকাশে বায়ুমণ্ডল নেই, কাজেই এই কাণ্ডটি ঘটবারও সুযোগ নেই।

৭. বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন মহাকাশে একটা বিপুল জলাধার রয়েছে। কতটা বিপুল? পৃথিবীর সমস্ত সাগরে যতটা জল রয়েছে তার ১ কোটি ৪০ লক্ষ কোটি গুণ বেশি জল রয়েছে সেখানে।

৮. একবার একদল রাশিয়ান বিজ্ঞানী মহাকাশে আরশোলার প্রজনন ঘটান। তার ফলে যে ৩৩টি আরশোলা জন্ম নেয় তারা নাকি পৃথিবীতে জন্ম নেওয়া আরশোলাদের থেকে বেশি শক্তিশালী, দ্রুত, এবং সক্ষম ছিল।

৯. প্রতি বছর চাঁদ পৃথিবী থেকে ১.৫ ইঞ্চি করে দূরে সরে যাচ্ছে।

১০. মহাকাশ সফরের পরে মহাকাশচারীদের উচ্চতা দু’ইঞ্চি করে বেড়ে যায়।


AK-47(জেনে নাও সবকিছু!)

AK-47-----------

AK-47
Avtomat Kalashnikova সংক্ষেপে AK- ইংরেজীতে Avtomat শব্দের প্রতিশব্দ ‘অটোমেটিক’। Avtomat এর A এবং Kalashnikova এর K মিলিয়ে এ অস্ত্রের নাম হয়েছে AK। ১৯৪৭ সালে এই রাইফেলের ডিজাইন সম্পন্ন হয় বলে AK-এর সঙ্গে ‘৪৭’ যোগ করা হয়। 
এভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বহুল পরিচিত রাইফেলের নামকরণ করা হয় AK-47।

এটি একটি গ্যাস অপারেটেড স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ।Mikhail Kalashnikov এর ডিজাইন করেছিলেন।আমেরিকান এম-১ এবং জার্মান এসআইজি-৪৪ এর ডিজাইনের সর্বোত্তম কৌশলের সমন্বয়ে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি আবিষ্কৃত হয় এবং তখন থেকেই এটি বহুল জনপ্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র হিসাবে বিশ্বের প্রায় ৫০ টিরও বেশি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গাঠনিক বৈশিষ্ট্য-

-দৈর্ঘ্য : ৮৭৫মি.মি
-ওজন: ৩.৪৭ কেজি ( ম্যাগাজিন ছাড়া) 
-কার্টিজ :৭.৬২*৩৯ মি.মি
-ফায়ারিং রেট :৬০০রাউন্ড/মিনিট
-কার্যকর দুরত্ব :৩০০মি-৩৫০মি
-ম্যাগাজিন : ৩০বা ৪৫ রাউন্ডের বক্স ম্যাগাজিন অথবা ৭৫ বা ১০০ রাউন্ডের ড্রাম ম্যগাজিন।

কার্যপ্রণালী-

AK-47 একটি গ্যাস অপারেটেড স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র।
ফায়ার করার জন্য প্রথমে একটি ফুল লোডেড কার্টিজ অথবা বক্স ম্যাগজিন লোড করতে হয়। দুইভাবে ফায়ার করা যায়। একটি হল সেমি-অটোমেটিক এবং অন্যটি ফুল অটোমেটিক। লোড করার পর এর সিলেক্টরটিকে লেভেল অফে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিতে হবে। এভাবে এটি সেমি-অটোমেটিক মোডে ফায়ারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। ট্রিগার টানলে যতক্ষণ না ট্রিগার ছেড়ে দেয়া হবে বা ম্যাগজিন শেষ হয়ে যাবে ততক্ষণ ফায়ারিং হতে থাকবে।অন্যদিকে ম্যাগজিন লোড করার পর এর সিলেক্টরটিকে লেভেল অফে নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে না দিয়ে মাঝামাঝি স্থানে রাখতে হবে । এভাবে ফুল অটোমেটিক মোডে ফায়ারের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

AK-47 এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর বুলেট এর মারাত্বক ভেদন ক্ষমতা।এটি ৭.৬২*৩৯ মি.মি বুলেটকে ৭১৫ মিটার/সেকেন্ডে ছুড়ে যা ৮ ইঞ্চি ওক কাঠের এবং ৫ ইঞ্চি কনন্ক্রিট দেয়াল ভেদ করতে পারে।তাছাড়া এসল্ট রাইফেল এর ব্যাপক জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হচ্ছে এটি ব্যবহারের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষন না নিয়েও সাধারণ একজন ব্যক্তি ২-৩ ঘন্টার মধ্যে ভালভাবে রপ্ত করার রেকর্ড রয়েছে।

Saturday, May 5, 2018

EXTRATERRESTRIALS-কেমন হতে পারে ভিনগ্রহী প্রাণীর রূপ?

ভিনগ্রহে যদি জীবন্ত প্রাণীর অস্তিত্ব থাকে, তাহলে তারা দেখতে ঠিক কেমন হবে? সায়েন্স ফিকশন লেখকেরা কিংবা সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র নির্মাতারা ভিনগ্রহের প্রাণীদেরকে মানুষের মতো করেই কল্পনা করে থাকে। কিছুটা পরিবর্তিত করে একটু অদ্ভুত চোখ, অদ্ভুত নাক, অদ্ভুত মাথা দিয়ে চালিয়ে দেয়। এলিয়েনরা বড় মাথাওয়ালা ও বড় চোখওয়ালা আংশিক মানুষ হতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। তারা তাদের মতো করে অপরিচিত ও স্বতন্ত্র কোনো আকারেরও হতে পারে।

EXTRATERRESTRIALS!
কেমন দেখতে তারা?

কোনো কোনো সায়েন্স ফিকশনে এলিয়েনদেরকে মানুষ ব্যতীত ভিন্ন কোনো আকৃতিতেও উপস্থাপন করা হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে এলিয়েনগুলো পৃথিবীরই কোনো না কোনো প্রাণীর পরিবর্তিত রূপ। যেমন মাকড়সা, অক্টোপাস কিংবা মাশরুম। সামান্য একটু আধটু এদিক সেদিক করে এলিয়েন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া। কারো কারো মনে হতে পারে এগুলো আসলে সায়েন্স ফিকশন লেখকদের কল্পনার সীমাবদ্ধতা। তারা নিজেদের কল্পনাকে বিস্তৃত করতে পারছে না, পৃথিবীর প্রাণীগুলোতেই সীমাবদ্ধ হয়ে আছে। তাই এলিয়েন হিসেবে যাদেরকেই কল্পনা করেন তারা, সকলেই পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রাণীর সাথে মিলে যায়।

লেখকদের সীমাবদ্ধতা হোক আর যা-ই হোক, এখানে আসলে কিছু বাস্তবতাও আছে। এলিয়েনরা যদি বাইরের বিশ্বে থেকেই থাকে তাহলে তারা দেখতে আমাদের পরিচিত কোনো না কোনো প্রাণীর মতোই হবে। কেন হবে তার পেছনেও ভালো কিছু কারণ আছে। খারাপ চরিত্রের এলিয়েনগুলোকে প্রায় সময়ই বড় ও ভয়ানক চোখের দানব হিসেবে কল্পনা করা হয় সায়েন্স ফিকশনগুলোতে। এলিয়েনরা কেন দেখতে আমাদের পরিচিত প্রাণীর মতো তার ব্যাখ্যায় এই খারাপ এলিয়েনকে বিবেচনা করলাম। আলোচনার জন্য চোখকে বেছে নিলাম।

আরো অনেক কিছু নিয়ে বিবেচনা-ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যেতো। আলোচনা করার জন্য পা আছে, ডানা আছে, কান আছে, মগজের আকার আছে। এগুলোও বেশ আগ্রহোদ্দীপক। কিংবা এটাও হতে পারতো- প্রাণীদের কেন চাকা নেই। কিন্তু তারপরও আপাতত চোখকেই রাখলাম!

দেহের মধ্যে থাকার জন্য চোখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই কথা তো পৃথিবীর অধিকাংশ প্রাণীর জন্য খাটেই, পাশাপাশি পৃথিবীর বাইরে অন্যান্য গ্রহের প্রাণীর জন্যও এটি প্রযোজ্য। প্রাণবান্ধব গ্রহগুলো তাদের নক্ষত্র থেকে খুব বেশি দূরে অবস্থান করে না। সেখানে আলো পৌঁছায়। যেখানে আলো আছে সেখানে কোনো কিছুকে খুঁজে পেতে, চলতে-ফিরতে, দূরত্ব নির্ণয় করতে এটিকে ব্যবহার করা যায়। যেখানে প্রাণ আছে, আলো আছে এবং প্রাণের টিকে থাকার জন্য আলোকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন আছে সেখানে আলোর প্রতি সংবেদনশীল কোনো অঙ্গ তৈরি হবার জোর সম্ভাবনা আছে। প্রাণীর দেহে কোনো না কোনো একভাবে চোখ বা চোখের মতো কোনোকিছু বিবর্তিত হবে, যা তাকে টিকে থাকতে সাহায্য করবে।

পৃথিবীতেও একসময় সমস্ত প্রাণিজগতে চোখের উপস্থিতি ছিল না। ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর দেহে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে চোখ বিবর্তিত হয়েছে। চোখের এক ডজনের মতো ভিন্নতা আছে, এদের কারো সাথে কারো কোনো সম্পর্ক নেই। দেহের প্রয়োজনের তাগিদে ভিন্ন ভিন্নভাবে তারা বিবর্তিত হয়েছে। আলো আছে, প্রাণী আছে এবং প্রাণীর কাছে আলোর প্রয়োজনীয়তা আছে। তাই কোনো একভাবে তারা নিজেরা নিজেদেরকে আলোর প্রতি সংবেদী করে নিয়েছে। প্রাণিজগতে এই ঘটনা এক ডজন বারেরও বেশি ঘটেছে। বিবর্তনের ধারায় একবার যাদের চোখ বিকশিত হয়েছিল, তারা নিজেদের দেহ থেকে চোখকে কখনো বাদ দিয়ে দেয়নি। চোখের উপকারিতার শেষ নেই।

চোখ বিবর্তিত হবার বেশ কয়েকটি উপায় আছে। সবচেয়ে সরল উপায়টি হচ্ছে পিন হোল ক্যামেরার মতো। এ ধরনের চোখের ক্ষেত্রে বাইরের দিকে ছোট একটি ছিদ্র থাকবে এবং এর পাশে অন্ধকার একটি চেম্বার থাকবে। ছিদ্রে একটি লেন্স থাকবে এবং আলোক রশ্মি লেন্সে আপতিত হয়ে অন্ধকার চেম্বারের দেয়ালে প্রতিচ্ছবি তৈরি করবে। দেয়ালে আলোর জন্য সংবেদনশীল কোষ থাকবে এবং এই কোষের মাধ্যমে মস্তিষ্ক বাইরের চিত্র ধারণ করতে পারবে।

এ ধরনের চোখের জন্য লেন্সেরও প্রয়োজন নেই আসলে। সাধারণ একটি ছোট ছিদ্রই এর কাজটি করতে পারে বেশ ভালোভাবে। তবে লেন্স না থাকলে ছিদ্রটি বড় হতে পারবে না। ছিদ্রটি ছোট হলে আবার এর মধ্য দিয়ে খুব বেশি আলো প্রবেশ করতে পারবে না। আলো কম প্রবেশ করবে, তার মানে হচ্ছে এই চোখের মাধ্যমে ধারণকৃত চিত্র বেশ ঝাপসা হবে।

এলিয়েনদের মাঝে এ ধরনের চোখের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব কিছু নয়। এ ধরনের চোখের এলিয়েন যদি পাওয়া যায় তাহলে আমরা এদেরকে বলবো ‘পিন-হোল’ চোখ। আগের দিনের ক্যামেরাগুলোর মতো। আগের ক্যামেরাগুলো দিয়ে এ রকম পিনের মতো ছোট ছিদ্র (হোল) দিয়ে ছবি তোলা হতো বলে এদের নাম ছিল ‘পিন-হোল ক্যামেরা’।

পিনহোল চোখের পাশের ছবিটি মানুষের চোখের। মানুষের চোখে লেন্স আছে। লেন্স থাকার অর্থ হচ্ছে চারদিকের অনেক আলোক রশ্মি একত্র করতে পারে। আলোক রশ্মির পরিমাণ বেশি হলে ছবির মানও অনেক ভালো হবে। মানুষের চোখের পেছন দিকে আলোর প্রতি সংবেদনশীল কোষ ‘রেটিনা’ আছে। রেটিনার সাথে মস্তিষ্কের সরাসরি সংযোগ আছে। রেটিনার মাধ্যমে চোখের ছবি চলে যায় মস্তিষ্কে। এই ছবি দেখে মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নেয় সামনের বস্তুটি আসলে কী? মশা না মাছি না মানুষ না টেবিল।

সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীতেই এ ধরনের চোখ বিদ্যমান। এই প্রক্রিয়ায় আলোক রশ্মি ধরার জন্য বেশ কয়েকটি প্রাণী প্রজাতিতে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে চোখের উৎপত্তি হয়েছিল। এই তালিকায় রয়েছে অক্টোপাসের চোখও।

এক ধরনের মাকড়সা আছে যারা লাফিয়ে চলে। এদের একটু অদ্ভুত রকমের চোখ আছে। এদের চোখ অনেকটা স্ক্যানারের মতো। মানুষের মতো এদের কোনো রেটিনা নেই, তাই স্ক্যানিং পদ্ধতিতে তারা নিজেদেরকে মানিয়ে নিয়েছে। সামনের এলাকাকে স্ক্যান করে করে তারা খাদ্য সংগ্রহ করে এবং চলাফেরা করে। এরা যদি খুব দ্রুতগতিতে আশেপাশের অঞ্চলকে স্ক্যান করতে পারতো তাহলে তেমন কোনো সমস্যা ছিল না। দুঃখজনকভাবে তাদের স্ক্যান করার গতি অনেক কম। তাই তারা আশেপাশের সকল জিনিসের প্রতি মনোযোগ না দিয়ে খাদ্য বা রাস্তার প্রতি কিংবা আগ্রহোদ্দীপক জিনিসের প্রতি মনোযোগ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়।

উপরের ছবিতে মাকড়শার চোখের পাশের চিত্রটি একটি গুচ্ছ চোখ বা জটিল চোখের ছবি। কীট-পতঙ্গ, চিংড়ি, তেলাপোকা ও অন্যান্য প্রাণীর মাঝে এ ধরনের চোখ দেখা যায়। গুচ্ছ বা পুঞ্জ আকারে অনেকগুলো চোখ বা অক্ষি থাকে বলে এদেরকে ‘পুঞ্জাক্ষি’ বলা হয়। গাঁদা ফুলের মতো একটি কেন্দ্রীয় বিন্দু থেকে চারদিকে কয়েক শত লম্বা টিউব বের হয়ে আসে এদের। প্রতিটি টিউবই আলাদা আলাদাভাবে ক্ষুদ্র চোখ হিসেবে কাজ করে। শত শত ক্ষুদ্র চোখের প্রত্যেকটিতেই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লেন্স আছে। প্রত্যেক চোখের দিক ভিন্ন।

প্রত্যেক চোখ ভিন্ন ভিন্ন দিক থেকে আলাদা আলাদা চিত্র ধারণ করে। তবে এসব ছবির কোনোটিই অর্থপূর্ণ হয় না। আলাদা আলাদা দিক থেকে আসা আলাদা চিত্র একত্রে মস্তিষ্কে যায় এবং মস্তিষ্ক সকল চিত্রকে সমন্বয় করে করে একটি অর্থপূর্ণ চিত্র তৈরি করে নেয়। একটি ফড়িং যখন কোনো পোকাকে খাদ্য হিসেবে ধরে নেয় তখন মনে করতে হবে ফড়িঙের চোখে শত শত ছবি উঠেছিল, মস্তিষ্ক শত শত ছবি বিশ্লেষণ করে একটি অর্থপূর্ণ ছবি তৈরি করেছে। এবং এর সাহায্যেই ফড়িং ঐ পোকাটিকে ধরতে পেরেছে।

টেলিস্কোপগুলোতে সাধারণত লেন্স ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আধুনিক টেলিস্কোপগুলোতে আয়না ব্যবহার করা হয়। আমাদের সবচেয়ে বড় টেলিস্কোপটি লেন্সের পরিবর্তে বড় একটি বক্র আয়না ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বক্র আয়না ব্যবহার করে চিত্র ধারণ করার ব্যাপারটি প্রাণিজগতেও আছে। স্কালুপ (scallop) নামে এক ধরনের ঝিনুক সদৃশ শামুক আছে যাদের চোখ বক্র আয়না পদ্ধতিতে কাজ করে।

আধুনিক টেলিস্কোপগুলোতে বক্র আয়না ব্যবহার করা হয়।

স্কালুপের বিশেষ ধরনের চোখ।

চোখ বিকশিত হবার আরো কতগুলো পদ্ধতি আছে। বহির্বিশ্বে যদি প্রাণের দেখা পাওয়া যায় তাহলে এই পদ্ধতিগুলোর কোনো একটি পদ্ধতির চোখের দেখা পাওয়া যাবার জোর সম্ভাবনা আছে।

এবার আমাদের কল্পনাকে আরো বেশি পরিমাণ বিস্তৃত করি। আমাদের কল্পিত প্রাণী যে গ্রহে থাকবে সে গ্রহে নক্ষত্রের আলোর প্রায় সকল বর্ণালীই থাকবে। বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের রেডিও স্তর থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের এক্স-রে পর্যন্ত সকল তরঙ্গই উপস্থিত থাকবে। আমরা বর্ণালীর এই সীমার অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশের প্রতি সংবেদনশীল। দৃশ্যমান বর্ণালীর অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি অংশ আমরা আমদের দেখার কাজে ব্যবহার করতে পারি। ভিন গ্রহের প্রাণীদেরকেও কি আমাদের মতোই হতে হবে? তাদের দেখার পরিসর আমাদের থেকে ভিন্ন হতে পারে কিংবা আমাদের চেয়ে আরো বিস্তৃত ও উন্নত হতে পারে। তাদের হয়তো রেডিও তরঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল চোখ থাকতে পারে। কিংবা থাকতে পারে এক্স-রে’র প্রতি সংবেদনশীল চোখও।

বর্ণালীর খুবই ক্ষুদ্র একটা অংশ দেখতে পায় মানুষ। ছবি: ইনডাকশন ল্যাম্প

কোনো ছবির মান নির্ভর করে তার রেজ্যুলেশনের উপর। রেজ্যুলেশন বেশি হলে ছবির মান ভালো হবে আর রেজ্যুলেশন কম হলে ছবির মান খারাপ হবে। বড় তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ব্যবহার করে তোলা ছবির রেজ্যুলেশন ভালো হয় না। রেডিও টেলিস্কোপ ব্যবহার করে যে ছবি তোলা হয় তার মান অন্য ছবি থেকে খারাপ আসবে এটাই স্বাভাবিক। আমরা যে তরঙ্গকে ‘আলো’ হিসেবে জানি অর্থাৎ মানুষের চোখে দৃশ্যমান তরঙ্গের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম। তাই এই তরঙ্গ ব্যবহার করে তোলা ছবির রেজ্যুলেশন অনেক বেশি থাকে এবং ছবির মান তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো হয়।

রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে তোলা ছবি বাজে মানের হলেও যোগাযোগ করার জন্য এই তরঙ্গ বেশ সুবিধাজনক। সেজন্যই এই তরঙ্গকে ব্যবহার করে বেতার ব্যবস্থার বিকাশ ঘটেছিল। আমি যতদূর জানি পৃথিবীতে এমন কোনো প্রাণীর বিকাশ ঘটেনি যারা রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে দেখে বা যোগাযোগ করে। একমাত্র মানুষ নামের প্রজাতিটি যোগাযোগের কাজে রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে, তবে এই যোগাযোগ দেহের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

দৃশ্যমান আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য কম, তাই ছবির মান ভালো হয়, তাহলে এর চেয়েও ছোট তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোর বেলায় কেমন হবে? উদাহরণ হিসেবে এক্স-রে’র কথাই বিবেচনা করি। এক্স-রে’কে ফোকাস করা বেশ কঠিন। সেজন্যই এক্সরে’র মাধ্যমে তোলা ছবিগুলো বাস্তব ছবির মতো হয় না। এক্স-রে তরঙ্গ এতোই তীব্র যে এর মাধ্যমে তোলা ছবিতে ছবির একটি ছায়া দেখা যায় মাত্র। পৃথিবীর প্রাণিজগতে এরকম কোনো প্রাণী নেই যারা এক্সরেকে দেখার কাজে ব্যবহার করতে জানে। তবে পৃথিবীতে এরকম কোনো প্রাণী না থাকলেও ভিন গ্রহে হয়তো ঠিকই এমন প্রাণী আছে যারা দেখার কাজে এক্সরে তরঙ্গকে ব্যবহার করে।

দেখার ব্যাপারটিও নির্ভর করে আলোক রশ্মির চলাচলের উপর। কোনো গ্রহে যদি সবসময় ঘন কুয়াশার উপস্থিতি থাকে এবং এর ফলে নক্ষত্রের আলো স্বাভাবিকভাবে প্রবেশ করতে না পারে তাহলে ঐ গ্রহে চোখের বিকাশ হবার সম্ভাবনা খুবই কম। এরকম পরিস্থিতিতে ঐ গ্রহে এমন কোনো ব্যবস্থার জন্ম হতে পারে যারা শব্দের মাধ্যমে দেখার কাজ চালায়। শব্দের মাধ্যমে দেখার কাজ চালিয়ে নেবার উদাহরণ পৃথিবীতেও আছে- বাদুড়। এরা একের পর এক শব্দ উৎপন্ন করে করে চলে, এই শব্দ আবার প্রতিফলিত হয়ে তাদের কানে লাগে। প্রতিফলিত হতে কত সময় লেগেছে তা বিশ্লেষণ করে তারা সিদ্ধান্ত নেয় সামনে কী আছে। শব্দ ফিরে আসতে যদি সময় বেশি নেয় তাহলে ধরে নিতে হবে সামনের বস্তুটি দূরে আছে, আর সময় যদি কম লাগে তাহলে বুঝতে হবে বস্তুটি নিকটে আছে।

বাদুড়। এরা শব্দ তরঙ্গকে ব্যবহার করে দেখার কাজ সম্পন্ন করে।

বাদুড়ের পাশাপাশি ডলফিন প্রজাতিরাও এই পদ্ধতিতে দেখার কাজ করে। মানুষও কৃত্রিমভাবে নিজের কাজে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। জাহাজে বা সাবমেরিনে কোনো কিছুর উপস্থিতি নির্ণয়ে (বলা যায় অনেকটা দেখার কাজে) এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষাতেও ব্যাপক হারে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

নদীর ডলফিনের জন্য শব্দ ব্যবহার করে দেখার প্রক্রিয়াটি খুবই উপকারী। কারণ নদীর পানি ঘোলা থাকে, তারা নিজেরাই পানি ঘোলা করে ফেলে। এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে স্বাভাবিক চোখে দেখা খুব কষ্টকর হয়ে যেত। শব্দের ব্যবহার তাই তাদেরকে বেশ উপযোগিতা প্রদান করেছে। পৃথিবীর প্রাণিজগতে শব্দীয়-দর্শন প্রক্রিয়া বেশ কয়েক বার বিবর্তিত হয়েছে এবং তাদের সবগুলোই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে হয়েছে। যেমন বাদুড়, তিমি, ডলফিন এবং দুটি ভিন্ন ধরনের গর্তবাসী পাখি।

ডলফিনের শোনার প্রক্রিয়া।

ভিনগ্রহে প্রাণ অনুসন্ধান করলে এরকম ‘শব্দীয়-চোখ’ সম্পন্ন এলিয়েনের দেখা পাওয়া যেতে পারে। এটা তেমন অবাক করা বিষয় নয়। বিশেষ করে যেসব গ্রহে ঘন কুয়াশা বিদ্যমান সেসব গ্রহে প্রাণ থাকলে তাদের দৃষ্টি-ব্যবস্থা এমন হবার সম্ভাবনাই প্রবল।

আমাদের পৃথিবীতে মাছের এমন এক ধরনের প্রজাতি আছে যারা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র ব্যবহার করে তাদের গন্তব্য চিনে নেয়। এই বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তারা নিজেরাই তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটিও সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে মাছের দুটি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিতে বিকশিত হয়েছে। একটি আফ্রিকা অঞ্চলের মাছ আর আরেকটি দক্ষিণ আমেরিকার মাছ।

প্লাটিপাসের একটি প্রজাতির মাঝে এক ধরনের বৈদ্যুতিক সেন্সর আছে। তার শিকারি প্রাণী যদি নড়াচড়া করে তাহলে মৃদু বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। ঐ বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রকে শনাক্ত করতে পারে প্লাটিপাসের সেন্সর। এই সেন্সর ব্যবহার করে প্লাটিপাস তার শিকার ধরে। ভিনগ্রহে যদি কোনো প্রাণী থাকে তাহলে তাদের মাঝেও প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে এরকম বৈদ্যুতিক সেন্সর থাকতে পারে, যা তাদের শিকার ধরতে কাজে লাগে। ভিনগ্রহে যদি প্রাণী থাকে তাহলে এমন অনেক কিছুই থাকতে পারে যার সাথে আমরা পৃথিবীতেই পরিচিত।

এই লেখাটি একটি দিক থেকে ভিন্ন। কারণ এখানের বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিতভাবে জানি না। প্রাচীন মানুষ, যারা কোনো কিছু ব্যাখ্যা করার জন্য অলীক কল্পনা ও গাজাখুঁরি গল্পের জন্ম দিয়েছিল। তারা নিজেরাও বিষয়গুলো নিশ্চিতভাবে জানতো না। তবে তাদের সাথে আমাদের পার্থক্য হচ্ছে আমরা একটি যৌক্তিক পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছি। তারা কোনোকিছু না জেনে কোনোকিছু যাচাই না করেই অলীক ব্যাখ্যা প্রদান করেছিল। আমাদের পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা সঠিকতা, নির্ভুলতা ও যৌক্তিকতায় এত এগিয়েছে যে দূর নক্ষত্রে কী আছে বা সেখানে কী হচ্ছে তা এখানে বসে বলে দিতে পারি। বিজ্ঞানের কিছু নিয়ম-নীতি মেনে যৌক্তিক উপায়েই বলে দিতে পারি হাজার হাজার আলোকবর্ষ দূরে থেকেও।

তারপরেও এসব গ্রহ-নক্ষত্র সম্বন্ধে অনেক কিছুই রহস্যময় থেকে যায়। মীমাংসা না হওয়া ব্যাপারগুলোকে ব্যাখ্যা করার জন্য আমরা কল্পিত গল্পের অবতারণা করে বসি না। আমরা অপেক্ষা করি। বিজ্ঞানের অগ্রগতি হয়, প্রযুক্তি উন্নত হয়। বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও প্রযুক্তির উন্নতিকে ব্যবহার করে আমরা এসব অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর জবাব পাবার চেষ্টা করি। ধৈর্যহারা হয়ে কোনো পৌরাণিক গল্প ফেঁদে বসি না।

তথ্যসূত্র

১. দ্য ম্যাজিক অব রিয়্যালিটি, রিচার্ড ডকিন্স, অনুবাদ: সিরাজাম মুনির শ্রাবণ, রোদেলা প্রকাশনী, ২০১৭
২. ফার্মি প্যারাডক্স: ওরা কোথায়, মাসিক জিরো টু ইনফিনিটি, সেপ্টেম্বর ২০১৪
৩.exploratorium.edu/theworld/sonar/sonar.html
৪.pinhole.cz/en/pinholecameras/whatis.html