Showing posts with label Astrophysics. Show all posts
Showing posts with label Astrophysics. Show all posts

Tuesday, May 8, 2018

সময়ের আপেক্ষিকতাঃবিশেষ অপেক্ষবাদের ভেল্কিবাজি!

সময়ের আপেক্ষিকতাঃবিশেষ অপেক্ষবাদের ভেল্কিবাজি!


আপেক্ষিকতা আধুনিক পদার্থবিদ্যার ঢাউস একটা বিষয়। শুধু এ নিয়েই আলবার্ট আইনস্টাইন সাহেবের আছে দু-দুটি থিওরি। বিশেষ আপেক্ষিকতা আর সাধারণ আপেক্ষিকতা নামে আমরা সেগুলোকে চিনি। বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বটি আইনস্টাইন সাহেব প্রকাশ করেন ১৯০৫ সালে। তখন বিজ্ঞান মহলে দারুণ হইচই পড়ে। এর ১০ বছর পরে প্রকাশ করেন বিশেষ আপেক্ষিকতা। তত্ত্বের হিসাবের সাথে প্রমাণ মিলে যাওয়ায় রাতারাতি সেলিব্রেটি বনে যান তিনি। পদার্থবিদ্যার দুটি মূল খুঁটির মধ্যে আপেক্ষিকতা একটি।

আরেকটি কোয়ান্টাম ফিজিক্স, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে যার জন্ম দেন ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক। পদার্থবিদ্যার যাবতীয় ভূতুড়ে ঘটনা ঘটে এই শাখায়, যা আমাদের বাস্তবিক জীবনের ঘটনাগুলি থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে পড়ে অণু-পরমাণুর এই ক্ষুদ্র জগতে।
যাই হোক, বিশেষ আপেক্ষিকতাও কিন্তু কম অদ্ভুত নয়। কারণ এখানে আছে আলোর অপরিবর্তনীয় গতি, সময় সম্প্রসারণ, দৈর্ঘ্য সংকোচনের মতো বিষয়। বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের এই সময় সম্প্রসারণ এবং আলোর গতি নিয়েই এই আলোচনা। সাধারণ আপেক্ষিকতা নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করবো।

Sunday, May 6, 2018

ব্ল্যাক হোলের অন্ধকার রহস্যন্মোচন!(BRIEFING THE BLACK HOLE)

আমরা সবাই স্পেস কে চিনি বা নাই চিনি ব্ল্যাক হোল এর এক অন্ধকার রহস্যে আমরা সবাই একে জানার জন্য উপছে পড়ি আর জেনেও নি হালকাভাবে!


প্রকারভেদটা জানার আগে আরেকবার বেসিকটা ক্লিয়ার করে নাও!


 ওকে এখন তোমরা ভালো ভাবেই ব্ল্যাক হোল এর সাইন্স জানো। এবার মূল আলোচনায় আসা যাক।
এই ব্ল্যাক হোল ও আবার কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে এবং এই বিষয় অতি সম্প্রতিই আমরা জানতে পেরেছি।আর তোমাদেরকে এই বিষয়টি জানাতে মাহমুদের লেখা এই পোস্ট মোক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী।
পড়ার পর কেমন লাগে তা কিন্তু জানাবা আর কোন প্রশ্ন থাকলে স্বকাতরচিত্তে জিজ্ঞাসা করবা!

ব্ল্যাকহোল কত প্রকার?

ব্ল্যাকহোল ৩ প্রকার

প্রাইমোডিয়াল ব্ল্যাকহোল।
নাক্ষত্রিক ব্ল্যাকহোল।
সুপারমেসিভ ব্ল্যাকহোল।
 Primordial Black Hole!

প্রাইমোডিয়াল ব্ল্যকহোলঃ-


মহাকর্ষীয় সংকোচনের ফলে সিঙ্গুলারিটিরর ঘনত্ব অনেক বেশী হয়। বিগ ব্যাং এর সময় মহাবিশ্বের ঘনত্ব ছিল অনেক বেশী।তাই এই সময় ব্ল্যাকহে তৈরি হওয়া সম্ভব।১৯৭১ সালে হকিং দেখান যে ব্ল্যাকহোল সূর্যের ভরের আাইতে কমও হতে পারে। বিগব্যাং এর সময় কয়েক কেজি ভর থেকে কয়েক হাজার সৌর ভরের ব্ল্যাকহোল তৈরি হওয়া সম্ভব। তবে হিসাবমতে ১হাজার১১কেজির থেকে কম ভরের সব ব্ল্যাকহোল ইতিমধ্যে হকিং রেডিয়েশনে বিলীন হয়ে গেছে।
Stellar Black Hole!
নাক্ষত্রিক ব্ল্যালহোলঃ-

ব্ল্যাকহোলের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত প্রকার হচ্ছে তারা থেকে বিবর্তিত ব্ল্যাকহোলেরা।  যেগুলো হাইড্রোজেন ফিউশনের মধ্যেমে তৈরি হয় তাদেরকে নক্ষএ বলা হয়। অর্থ্যৎ হাইড্রোজেন হল জ্বালানি এবং হিলিয়াম হল উৎপাদক। মহাকর্ষ বলের জন্য এদের তাপমাএা প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। একসময় সেগুলো নিউক্লিক ফিউশন বিক্রিয়ায় তাপমাএার জন্য পৌছাঁয়।তখন হাউড্রোজেন এবং নিউক্লিয়াস পরষ্পরের সাথে যুক্ত হতে থাকে। ফলে এদের অভ্যন্তর থেকে প্রচুর পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়। তারার নিজের ভরের জন্য মহাকর্ষ বল বল কেন্দ্রের দিকে টানে। ফলে সাম্যাবস্তা পাওয়ার জন্য স্থির হারে শক্তি নির্গত করতে থাকে। এমন অবস্থায় তারাকে বলা হয় মেইন সিকুয়েন্স স্টার।
সাধারণ অবস্থায় এর ভেতরে নিউক্লিয় ফিউশন হয় না। ফলে একসময় তারা গুলো তাদের নিজেদের সব জজ্বালানি শেষ করে ফেলে। এর ফলে কোন বহির্মূখী চাপ মহাকর্ষ বলকে বাধা দিতে পারে না। তাই মহাকর্ষ তারাকে সংকুচিত করে ফেলে। ০.৫ এর তারা গুলো বামন তারতে রূপান্তরিত হয়। ০.৫-১০ সৌরভরের তারা গুলোতে বেশ তাপমাএা বেড়ে যায় এবং হিলিয়ামের ফিউশন শুরু হয়ে যায়। এদের এ সময় লাল দানবের মত দেখায়। লাল দানবে লোহা পর্যন্ত চলতে শুরু করে। এরা নিবুলা বা বামন গ্রহে পরিণত হয়। এক সময় নিউক্লিক ফিউশন চলা বন্ধ হয়ে যায় এবং সুপারনোভা বিষ্পোরণ হয়ে মহাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। সুপারনোভা বিষ্পোরণে যে অংশটুকু অবশিষ্ট থাকে তার ভর যদি ১.৪ সৌরভরের চেয়ে বেশী হয় তখন তারাটির মধ্যেবর্তী ইলেক্ট্রনের ডিজেনারেসি সংকোচনে বাধা দিতে পারে না। ফলে ইলেক্ট্রন ও প্রোটনে যক্ত হয়ে নিউট্রনে পরিণত হয়। এ সময় এ তারাদের বলা হয় নিউট্রন স্টার।
Supermassive Black Hole!
সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলঃ-

পৃথিবীর ভরের প্রায় ৩৩৩০০০ হাজার গুণ ভর সূর্যের। সূর্যের ভরকে সৌরভর বলা হয়। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল গুলো কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক শত কোটি সৌরভরের পর্যন্ত হতে পারে। এগুলো মূলত পাওয়া যায় গ্যালাক্সির ভেতরে। প্রত্যেকটি গ্যালাক্সির মধ্যে একটি করে ব্ল্যাকহোল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে যে ব্ল্যাকহোল রয়েছে তার নাম স্যাজিটেরিয়াস এ স্টার।যার ভর মোটামুটি ৪১ লক্ষ সৌরভর। এ ধরণের ব্ল্যাকহেল গুলো কিভাবে তৈরি হয় তা এখনো সুনির্দিষ্ট ধারণা পাওয়া যায় নি।
তবে বিজ্ঞানিরা মনে করেন এগুলি বিগ ব্যাং এর সময় তৈরি হয়েছিল।
আর ব্ল্যাক্ন হোলে যদি ঘুরে আসতে চাও তবে এই লোকটার সঙ্গী হতে পার!
জোক করছিলাম!এতা অসম্ভব!

E = mc^2(ইতিহাস বদলে দেওয়া সমীকরণ)!

ইতিহাস বদলে দেওয়া সমীকরণ!


অ্যালবার্ট আইনস্টাইন বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত বিজ্ঞানী। তিনি যেমনি সুপরিচিত, তেমনি সুপরিচিত তার বিখ্যাত E = mc^2 সমীকরণটি। বিজ্ঞানের জগতে এত বিখ্যাত আর কোনো সমীকরণ দ্বিতীয়টি আছে কি না, তাতে সন্দেহ আছে। সমীকরণটি এত সুপরিচিত হলেও আমরা অনেকেই জানি না কী এর অর্থ।


► সহজ ভাষায়ঃ শক্তি হচ্ছে ভর ও আলোর বেগের বর্গের গুণফল।
► যা আমাদের শিখিয়েছিলঃ সমীকরণে ধ্রুবক থাকায় সামান্য ভরের পরিবর্তনের কারণে বিশাল পরিমাণ শক্তি নির্গত হতে পারে।
আইনস্টাইনের বৈজ্ঞানিক দূরদৃষ্টি ও জ্ঞানের একটি অন্তর্নিহিত দিক ছিল। তিনিই সবার আগে উপলব্ধি করেন মেটার বা বস্তু এবং এনার্জি বা শক্তি আসলে একই বস্তুর দুটি রূপ। ম্যাটারকে শক্তিতে রূপান্তর করা যাবে। আর শক্তিকে রূপ দেয়া যাবে মেটারে। একটা উদাহরণ দেয়া যাক। একটি সাধারণ হাইড্রোজেন অণুর কথা ভাবুন। মূলত একটি হাইড্রোজেন অণু তৈরি একটি প্রোটন দিয়ে। প্রোটন হচ্ছে অণু বা অ্যাটমের একটি সাবঅ্যাটমিক পার্টিকল। প্রোটন নামের এই সাবঅ্যাটমিক পার্টিকলের ভর বা mass ০. ০০০ ০০০ ০০০ ০০০ ০০০ ০০০ ০০০ ০০০ ০০১৬৭২ কেজি। ওই ভর নিশ্চিতভাবেই ছোট্ট একটি ভর। কিন্তু আমরা প্রতিদিন যেসব ম্যাটার বা বস্তু দেখছি, তাতে আছে প্রচুর পরিমাণ অণু বা অ্যাটম। যেমনঃ এক কেজি বিশুদ্ধ পানিতে হাইড্রোজেন অণুর পরিমাণ ১১১ গ্রাম বা ০.১১১ কেজির চেয়ে সামান্য বেশি। আইনস্টাইনের ফর্মুলা আমাদের জানিয়ে দেয়, এই ভরের পুরোটাই যদি হঠাৎ করে এনার্জিতে রূপান্তর করা হয়, তবে তা কতটুকু এনার্জির সমান হবে। এই সমীকরণ আমাদের বলে, এই এনার্জির পরিমাণ বের করতে হলে আলোর গতির বর্গকে এর ভর দিয়ে গুণ করতে হবে।
E = এনার্জি বা শক্তি
m = ভর বা মাস = ০.১১১ কেজি, ওপরে দেয়া উদাহরণ অনুসারে
c = আলোর গতি = প্রতি সেকেন্ডে ৩০০ ০০০ ০০০ মিটার 
তাহলে আমরা পাচ্ছি,E = mc^2
= ০.১১১ X ৩০০ ০০০ ০০০ X ৩০০ ০০০ ০০০ জুল
= ১০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ জুল
এই এনার্জির পরিমাণ অবিশ্বাস্য ধরনের বড়। অবশ্য এক জুল খুব একটা বড় মাপের শক্তির একক নয়। মোটামুটিভাবে বলতে পারি একটি মাঝারি আকারের পাঠ্যবই হাত থেকে মেঝেতে ফেলে দিলে যে পরিমাণ এনার্জি বা শক্তির সৃষ্টি হয় তা ১ জুল শক্তির সমান। কিন্তু ৩০ গ্রাম হাইড্রোজেন অণুর মধ্যে যে পরিমাণ এনার্জি আছে তা পাওয়া যাবে হাজার হাজার গ্যালন গ্যাসোলিন পোড়ানো হলে।

এর আগে আমরা ১ কেজি পানিতে থাকা ১১১ গ্রাম হাইড্রোজেন অণুর এনার্জির পরিমাণ বের করেছি। দেখেছি সে এনার্জির পরিমাণ ১০,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ জৌল। এবার আমরা পুরো এক কেজি পানির কথা বিবেচনা করি। এ পানিতে কিন্তু অক্সিজেনও আছে। এই ১ কেজি পানিতে থাকা অণুর এনার্জির পরিমাণ ১ কোটি গ্যালন গ্যাসোলিনের এনার্জির প্রায় সমান। এই সবটুকু এনার্জি কি বের করে আনা সম্ভব হবে? কখনো কি সম্ভব হয়েছিল? এই ১ কেজি পানির পুরোটাকেই এনার্জিতে রূপান্তর সম্ভব যদি পুরো পানিকে অ্যানিহিলেট বা ধ্বংস করে দেয়া যায়। এ প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন ম্যাটার বা বস্তুর পুরোপুরি ধ্বংস সাধন। আর তা শুধু তখনই সম্ভব, যখন ম্যাটারের সাথে সমপরিমাণ অ্যান্টিম্যাটারের সাক্ষাৎ ঘটে। অ্যান্টিম্যাটার সেই বস্তু দিয়ে গঠিত যার চার্জ ম্যাটারের বিপরীত। অ্যান্টিম্যাটারের অস্তিত্ব আছে। তেজস্ক্রিয় পদার্থের ক্ষয় বা রেডিওয়্যাকটিভ ডিকেতে এটি পর্যবেক্ষণযোগ্য। গবেষণাগারে অ্যান্টিম্যাটার তৈরিও করা হয়েছে। কিন্তু এটি ক্ষণস্থায়ী। তাই বস্তুর সংস্পর্শে আপনা-আপনি ধ্বংস হয়ে যায় এবং এর এই আপনা-আপনি ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঠেকানোর মতো বস্তু যথাশিগগির তৈরি সম্ভব হয় না। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তা এখনো তৈরি করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আমাদের এক কেজি ‘ওয়াটার’কে পুরোপুরি এনার্জিতে রূপান্তর করা যাবে না এর সাথে ‘অ্যান্টিওয়াটার’ মিশিয়ে। ভবিষ্যতে সম্ভব হবে কি না জানি না। তবে অন্তত এখন সম্ভব নয়।

প্রোটনের মতো ক্ষুদ্র এলিমেন্টারি পার্টিকলের আরেকটি প্রপঞ্চ বা ফেনোমেনন হচ্ছে এরা একীভূত হয়। একটি একক প্রোটন গঠন করে একটি হাইড্রোজেন অণুর নিউক্লিয়াস। একটি হিলিয়াম অণুতে পাওয়া যায় দুটি প্রোটন। এভাবেই পদার্থগুলোর সৃষ্টি হয়। প্রকৃতিতে পাওয়া সবচেয়ে ভারী পদার্থ ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসে আছে ৯২টি প্রোটন। দুটি ফ্রি প্রোটন তৈরি সম্ভব যেগুলো এক সাথে মিলে হিলিয়ামের নিউক্লিয়াস গঠন করতে শুরু করবে। এর জন্য প্রয়োজন হবে প্রোটন দুটিকে দ্রুতগতিতে পরসপরের দিকে সজোরে নিক্ষেপ করা। এই প্রক্রিয়াটি ঘটে সূর্যে। ঠিক একই প্রক্রিয়াটি ঘটানো সম্ভব পৃথিবীতেও লেজার ও চুম্বক ব্যবহার করে ঘটানো যাবে একটি পারমাণবিক বোমার কেন্দ্র্রেও। এ প্রক্রিয়ার নাম নিউক্লিয়ার ফিউশন। এর মজার দিক হলো, যখন প্রোটনকে একীভূত হতে বাধ্য করা হয়, তখন তাদের পুরো ভর বা শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যে শক্তি বা এনার্জি আমরা E=mc^2 ফর্মুলা ব্যবহার করে বের করি। একীভূত হওয়া প্রোটন দুটির ভর আলাদা দুটি প্রোটনের ভরের সমষ্টির চেয়ে কম। প্রোটন দুটি যখন এক সাথে হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ভর পরিণত হয় এনার্জিতে। সাধারণত এর পরিমাণ মোট ভরের ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ওপরের সূত্রানুযায়ী যে পরিমাণ এনার্জি পাওয়ার কথা এর ৭ শতাংশ এনার্জি হিসেবে বের হয়। বাকিটা ভর হিসেবে একীভূত হয়। লোহার চেয়ে ভারী পদার্থ অস্থিতিশীল। এগুলোর কিছু কিছু খুবই অস্থিতিশীল। এর অর্থ হচ্ছে, এগুলোর নিউক্লিয়াস গঠিত ধনাত্মক চার্জসংবলিত অনেক প্রোটনের সমন্বয়ে। এগুলো যেকোনো সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের অণুকে আমরা বলি তেজস্ক্রিয় বা রেডিওয়্যাকটিভ। যেমন ইউরেনিয়াম একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ বা রেডিওয়্যাকটিভ সাবস্ট্যান্স। প্রতি সেকেন্ডে ইউরেনিয়ামের প্রচুর অণু পরসপর পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। যখন তেমনটি ঘটে, তখন টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া ইউরেনিয়াম মূল ইউরেনিয়াম অণু থেকে কম তেজস্ক্রিয়। আবার ওপরের সূত্রানুযায়ী অতিরিক্ত ভর অদৃশ্য হয়ে যায় এনার্জি হিসেবে। এই প্রক্রিয়ার নাম নিউক্লিয়ার ফিউশন।

এই উভয় ধরনের পারমাণবিক বিক্রিয়াই সামান্য পরিমাণ ভরকে বের করে দেয় এনার্জি হিসেবে। আর বেশির ভাগ এনার্জি যেখানে খরচ হয়, তা সম্ভবত আপনিও জানেন। পারমাণবিক অস্ত্রে কাজে লাগানো হয় নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া। আর পারমাণবিক বোমায় ব্যবহার হয় নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানে নিক্ষিপ্ত বোমায় এটা ব্যবহার হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও চলে এই একই প্রক্রিয়া।

আইনস্টাইন বুঝতে সক্ষম ছিলেন তার এই বিখ্যাত সমীকরণের প্রয়োগ কত দূর যেতে পারে। স্বভাবগতভাবে ও রাজনৈতিকভাবে আইনস্টাইনকে আমরা জানি একজন শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে। তবু বলা দরকার, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে আণবিক বোমার ওপর গবেষণা করার জন্য অর্থ চেয়ে চিঠি লিখতে তিনি সহায়তা করেছিলেন। আর সেই সূত্রেই নাৎসি জার্মানি ও জাপানিদের আগেই মার্কিনিদের হাতে আসে পারমাণবিক বোমা।
সেই চিঠিই জন্ম দেয় মানহাটান প্রজেক্ট। আর আণবিক

বোমা তৈরির মধ্য দিয়েই E = mc^2 সমীকরণটির বাস্তব প্রমাণ পেল বিশ্ববাসী।


Saturday, May 5, 2018

মাল্টিভার্স ও প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরি!

মাল্টিভার্স ও প্যারালাল ইউনিভার্স থিওরি

স্ট্রিং থিওরির একটি অদ্ভূত ও চাঞ্চল্যকর প্রস্তাব হল মাল্টিভার্স থিওরি বা বহুবিশ্ব তত্ত্ব এবং প্যারলাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্ব।


স্ট্রিং থিওরিকে সবকিছুর থিওরি বলা হয়।এটি যেমন কোয়ান্টাম থিওরির মতো ক্ষুদ্র স্ট্রিংয়ের ধারনা দেয় তেমনি আপেক্ষিতার তত্ত্বের মতো বিশাল মাল্টিভার্সেরও ধারণা দেয়া থেকে আমাদের বঞ্চিত 
করেনি তাই বর্তমানে সবচেয়ে ক্ষুদ্র আর সবচেয়ে বড় দুটো জগতই স্ট্রিং তাত্ত্বিকদের দখলে।
বর্তমানে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে জানতে পেরেছি এযাবত আবিস্কৃত মহাবিশ্বের মোট ডায়ামিটার প্রায় 91 বিলিয়ান আলোকবর্ষ।এ পর্যন্তই আমাদের জানা ছিল।
কিন্তু এক্ষেত্রে স্ট্রিং থিওরি তার ক্ষেপাটে আর আগ্রাসী মনোভাব নিয়েই বলে দিল যে আমাদের ইউনিভার্স একা নয় এইরকম আরও অসংখ্য মহাবিশ্ব আছে।শুধু তাই নয় এই মহাবিশ্বের সংখ্যাও নাকি কমপক্ষে 10^500 টি(500টি 10 পরপর গুন করলে যত হবে)।
সংখ্যাটি এতই বড় মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদিকাল থেকে কেউ যদি এক সেকেন্ডে 1000 করে সংখ্যা গুনতে শুরু তবুও এই 13.82 বিলিয়ন বছরে মাত্র 10^20 টি সংখ্যা গুনতে সক্ষম হবে।
বিষয়টি সম্পর্কে ভালভাবে জানতে আমাদের সেই অতিক্ষুদ্র স্ট্রিংদের অতিমাত্রিক জগতে ফিরে যেতে হবে।
প্রতিটি কণিকার স্ট্রিংগুলো যেমন নির্দিষ্ট কম্পন আছে তেমনি আছে বিভিন্ন অতিমাত্রার ব্রেনে এদের বিভিন্ন বিন্যাস।স্ট্রিং তাত্ত্বিকেরা দেখলেন যে স্ট্রিং গুলোর এই বিন্যাস বিভিন্ন ধরনের হতে পারে আর এই বিন্যাসের সংখ্যাটা হলো 10^500 এরও বেশি।আর এই সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই বলা হলো যে সমসংখ্যক মহাবিশ্ব আছে।
মোটকথা বিগব্যাং-এর সময় বা এর আগে-পরে ভিন্ন ভিন্ন স্ট্রিং বিন্যাসের কারণে ভিন্ন ভিন্ন মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছিল এবং এখনও হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
অর্থাৎ আমাদের মহাবিশ্বের স্ট্রিং বিন্যাস আর আমাদের আশেপাশের মহাবিশ্বগুলোর বিন্যাস আলাদা আলাদা।এইভাবে প্রায় 10^500-এরও অধিক বিন্যাস সম্পন্ন মহাবিশ্ব থাকতে পারে এবং সেখানকার নিয়মনিতীও ভিন্ন।এটাই হলো বহুবিশ্ব তত্ত্ব।

প্যারলাল ইউনিভার্স হলো একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একাধিক মহাবিশ্ব।এতগুলো বিন্যাস সম্পন্ন মহাবিশ্বের মধ্যে একই বিন্যাস সম্পন্ন একাধিক মহাবিশ্ব থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই যদি কোন মহাবিশ্বের স্ট্রিং বিন্যাস আমাদের মহাবিশ্বের বিন্যিসের সাথে মিলে যায় তবে সেখানে আমাদের মহাবিশ্বের মতোই একইরকম নিয়মনিতী সম্পন্ন মহাবিশ্ব সৃষ্টি হবে।সেখানেও আমাদের সৌরজগতের মতো একটা সৌরজগতে আমাদের পৃথিবীর মতো আরেকটা পৃথিবী থাকবে এবং সেখানে আমার মতো কেউ একজন এই লেখাটি লিখেছিল আর আপনার মতো কেউ লেখাটি পড়ছে।আপনি হয়তোবা আপনির সেই সমান্তরাল ভাইটির কথা ভাবছেন এবং সেও আপনার কথা ভাবছে।
এইরূপ পরস্পর একই স্ট্রিং বিন্যাস যুক্ত মহাবিশ্বকে বলা হয় প্যারালাল ইউনিভার্স বা সমান্তরাল মহাবিশ্ব।
মাল্টিভার্স এবং প্যারালাল ইউনিভার্স নিয়ে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর সংখ্যাও কিন্তু কম নয়।জনপ্রিয় এনিমেশন মুভি সিরিজ ডোরেমোনের Parallel Universe নামের এক পর্বে দেখা যায় নবিতা তার সমান্তরালের সাথে দেখা করতে ডোরেমনের গ্যাজেটের সাহায্যে পাড়ি জমায় প্যারালাল ইউনিভার্সে।
হয়তোবা আমরাও একদিন আমাদের সমান্তরাল ভাই বা বোনটির সাথে বসে এক কাপ চা অথবা কফি খেতে পারব।


Monday, April 23, 2018

General Theory Of Relativity(চলো সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে জানি)

চলো সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব নিয়ে জানি

সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব


আজ রাতে আমি বাড়ির ছাদে বসে আকাশে এক আশ্চর্য ঘটনা দেখতে পাই।বন্ধুরা আমি অনিক।এখন রাত ২ টা।আমি ছাদে বসে আকাশ দেখছিলাম অনেকখন থেকে।হঠাতই আমি দেখি যে, দুইটি তারা খুব পাশাপাশি অবস্হান করছে।যদিও তাদের মাঝে দূরত্ব অনেক।
বিষয়টা প্রথমে তেমন ভাবাইনি আমাই,কিন্তু অনেকখন ধরে ঐ জায়গায় একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে আমি হতভম্ব হয়ে যায়।আমি সেদিকে তাকিয়ে থেকে দেখেছিলাম যে একটি তারা ধীরে ধীরে অপরটিকে প্রদক্ষিণ করছে।আবার কখনো অপর তারাটিও একই রকম আচরন করছে।বোঝার সুবিধার জন্য একটি তারাকে আমি x এবং অপরটিকে y ধরেছিলাম।তাহলে সারারাত ধরে আমার দেখা ঘটনাটি হলো কখনো x,y কে ঘিরে ঘুরে,আবার কখনো y,x কে ঘিরে ঘুরছে।পাশে ছিল আমার বড়ভাই।সেও আমার সাথে বিষয়টি দেখছিল।তবে সে পদার্থবিজ্ঞান তেমন একটা বুঝতো না।তাই সে আমাই বলল...

ভাইঃএখানে এমন ঘটনা কেন ঘটছে?(বড়ভাই)
আমিঃআসলে এখানে মহাকর্ষের প্রভাবে এমনটা ঘটছে।(আমি)
ভাইঃওহ বুঝলাম।এখানে x,y কে আকর্ষণ করছে।
আমিঃচিন্তাটি ভালো,তবে পুরোপুরি ঠিক না।
ভাইঃকেন?
আমিঃকারন তুমি এখানে নিউটনীয় মহাকর্ষের কথা বলছ।কিন্তু এখান মহাকর্ষ আলাদা অর্থ বহন করে।
ভাইঃকেমন?
আমিঃবেশিরভাগ মানুষই নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব সম্পর্কে জানে।তবে ১৯১৫ আইনস্টাইনও মহাকর্ষ নিয়ে একটি তত্ত্ব তৈরী করে।যার নাম জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি বা সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব।আমাদের দেখা এই বিষয়টা এই তত্ত্ব দ্বারা ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
ভাইঃকিন্তু নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব গ্রহণযোগ্য নয় কেন?
আমিঃএর জন্য আমাদের এই তত্ত্বের ইতিহাস জানতে হবে।১৯০৫ সালের আগে নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব সর্বত্র প্রচলিত ছিল।তবে বিজ্ঞান হলো যুক্তির খেলা।১৯০৫ সালের পরে আইনস্টাইন এই তত্ত্বে ভুল বুঝতে পারেন।তিনি ভুল গুলো বুঝেন কতগুলো তথ্যের উপর ভিত্তি করে।

সূর্য পৃথিবী হতে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্হিত।আর আলোর বেগ প্রায় ৩ লক্ষ কি.মি./সে.।
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড প্রায়।
এখন যদি ধরে নেওয়া যায়,নিটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব এখানে কাজ করছে,তবে নেক কিছু ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।(নিউটনের তত্ত্ব অনুসারে,মহাকর্ষ হলো একটি আকর্ষণ বল)ধরে নিলাম সূর্য পৃথিবীকে আকর্ষণ করে চারপাশে ঘোরাচ্ছে।চলো আমরা একটু গভীরভাবে চিন্তা করি।মনে মনে সূর্যকে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি থেকে উধাও করে দাও,তবে কি ঘটবে এখন।
পৃথিবী সাথে সাথে কক্ষপথ ত্যাগ করে হারিয়ে যাবে।তার মানে এখানে মহাকর্ষের ক্রিয়া খুবই দ্রুত ঘটবে।তাহলে মহাবিশ্বে সবচেয়ে গতিশীল হওয়ার কথা মহাকর্ষের বেগ।
কেননা আলোর যেখানে পৃথিবীতে আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট,সেখানেতো মহাকর্ষের কোন সময়ই লাগবে না বললে চলে।
তবে আগেই আইনস্টাইন তার আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বে বলেছেন যে,এই মহাবিশ্বে আলোর বেগই সর্বোচ্চ।কোনকিছুই এর বেগকে তিক্রম করতে পারবে না।যেহেতু মহাকর্ষের আলোর বেগকে অতিক্রম করার কথা নয়,সেহেতু মহাকর্ষ গতিশীল কিছু না।
অর্থ্যাৎ মহাকর্ষ কোন আকর্ষণ বল নয়।মহাকর্ষ হলো অন্যকিছু।
সেই অন্যকিছুকে নিয়ে ব্যাপক ভাবনার পরেই ১৯১৫ সালে আইনস্টাইন সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন।যার দ্বারা সেই অন্যকিছুকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।
ভাইঃওহ বুঝেছি,নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব কেন এখানে চলবে না।আসলে এর সীমাবদ্ধতা আছে।
আমিঃ এই সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব বলতে আইনস্টাইন কর্তৃক আবিষ্কৃত মহাকর্ষের
জ্যামিতিক নকশাকে বোঝায়।এই তত্ত্বটি মূলত বিশেষ আপেক্ষিকতা ও নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্বের একীভূত রুপ।


ভাইঃবুঝেছি,তাহলে এই তত্ত্ব অনুসারে মহাকর্ষ আসলে কি??
আমিঃসেটা আর যাই হোক,কোন আকর্ষণ বল না।এটা বোঝানোর জন্য শুরু থেকে আলোচনা করি...
আমরা আমাদের চারপাশের সবকিছু ত্রিমাত্রিক(দৈর্ঘ্য,প্রস্হ ও উচ্চতা) দেখি।
তবে আইনস্টাইনের মতে আমাদের মহাবিশ্ব চতুর্মাত্রিক(দৈর্ঘ্য,প্রস্হ,উচ্চতা ও সময়)।আমরা সহজেই বুঝতে পারি,যেকোন স্হান গঠনের জন্য তিনটি মাত্রা আবশ্যক।তাই তিনটি মাত্রার সমন্বয়ে গঠিত স্হান ও সময়কে একত্রে স্হানকাল বা Space-time বলে।অর্থ্যাৎ মহাবিশ্বের প্রত্যেক স্হানই স্হানকালের অংশ।
এখন একটা উদাহরনে যায়
তুমি একটা চাদর নাও।এবার চারজন চারকোনা ধরে এটাকে উপরে তুলে রাখো।এবার একটা লোহার বল মাঝখানে রেখে দাও।কি দেখতে পাবে তুমি?
দেখা যাবে যে,মাঝখানটি নিচের দিকে বসে গিয়েছে(বি.দ্র. পৃথিবীতে এটা ওজনের কারনে নিচের দিকে বসলেও মহাবিশ্বে সেটার কারন হালকা ভিন্ন।যা পরে বলা আছে)।যেহেতু মহাবিশ্বের সব জায়গায় স্হানকাল,তাই সেখানে কোন ভারী বস্তু থাকলে সেখানেও চাদরের মতো বক্রতা তৈরী হবে।স্হানকালের উপর প্রতিটি ভারী বস্তুর জন্য এই ঘটনা ঘটবে।কোন ভারী বস্তুর জন্য স্হানকালে তৈরী এই বক্রতাকে স্হানকালের বক্রতা বা Space-time curvature বলা হয়।এতটুকু নিশ্চয়ই বুঝেছো?
ভাইঃহমম
আমিঃচলো আবার সেই চাদরের ভাবনাই যায়।চাদরের মাঝখানে বল রাখার পরে সেখানে বক্রতার সৃষ্টি হয়েছিল।এবার একটা ছোট গুলি নিয়ে চাদরের চারপাশে ঘূর্ণন পথে গতি দিয়ে চালিয়ে দাও।দেখা যাবে,গুলিটি ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে কেন্দ্রে পড়েছে।কিন্তু সেই চাদর ভেদ করে বাইরে যাবার ক্ষমতা গুলিটির নাই।তবে চাদরকে মহাবিশ্বের সাথে তুলনা করলে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে,চাদরটি দ্বিমাত্রিক এবং ঘর্ষণযুক্ত বস্তু কিন্তু মহাকাশ চতুর্মাত্রিক এবং ঘর্ষণহীন।
এবার আমরা চাদরের জায়গায় মহাকাশের কোন জায়গার স্হানকাল,লোহার বলটিকে খুব ভারী বস্তুু(যেমনঃসূর্য) ও গুলিটির জায়গায় কম ভারী বস্তুু(যেমনঃপৃথিবী) কে কল্পনা করি।
মহাকাশ ঘর্ষণহীন হবার জন্য,আর ভারী বস্তুটির স্হানকালের বক্রতার জন্য কম ভারী বস্তুটি অনবরত ঘুরতেই থাকবে।এই জন্যই পৃথিবী সূর্যের চারপাশে, চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে।
আর সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে কোন বস্তুর উপর স্হানকালের বক্রতার প্রভাবই মহাকর্ষ।
আমরা যদি কোন বস্তুর চারপাশে অন্য বস্তুকে ঘোরাতে চাই তবে সেই বস্তুর স্হানকালের বক্রতা অপরটির তুলনায় শক্তিশালী হতে হবে।
তাই মহাকর্ষ মূলত স্হানকালের বক্রতার জন্য সৃষ্ট একটা বাঁকা পথ,কোন আকর্ষণবল নয়।
ভাইঃবুঝেছি,কিন্তু মহাকাশে এই বক্রতা তৈরী হয় কেন??
আমিঃএটা মূলত স্হানকালের মধ্যস্হিত পদার্থের ভর-শক্তি এবং ভরবেগের জন্যই সৃষ্টি হয়।
ভাইঃআচ্ছা,পৃথিবীর আদিবেগ তো শূণ্য হবার কথা ছিল,তবে সে বেগ পেলো কোথাই।
আমিঃআসলে মহাবিষ্ফরনের পরে যখন পৃথিবীর মতো গ্রহগুলো তৈরী হয়,তখনই তারা গতি পেয়ে গেছে।যেহেতু মহাকাশ ঘর্ষণহীন,তাই এর বেগ এখনও তখনকার সমানই আছে।
অতীতের যে পরিমান বেগে পৃথিবী সূর্যের স্হানকালের বক্রতার মাঝে প্রবেশ করে,সেই বেগ এখনও কার্যকর আছে।
ভাইঃপৃথিবী কি স্হানকালের বক্রতার জন্যই বক্র পথে মানে উপবৃত্তাকার পথে চলে??
আমিঃহমম
চলে আবার একটা উদাহরনে যাই।
ধরো তুমি রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছ।আবার ধরো যে,রাস্তার বাইরে আর কিছুই নাই এমনভাবে রাস্তাটা সাজানো।
তবে তোমার গাড়ি সেই রাস্তা দিয়েই চলতেই থাকবে।তেমনি স্হানকালের বক্রতার জন্য সৃষ্ট পথকে ভেদ করে যাবার মতো ক্ষমতা পৃথিবীর নাই।
আর সূর্যের বক্রতার ধরনে কোথাও বেশি বেকে গেছে আবার কোথাও কম।
তা সম্পূর্ণ বৃত্তাকার পথ সৃষ্টি না হয়ে সেটা হয়েছে একটা উপবৃত্তাকার পথ।
আসলে সূর্য পৃথিবীর তুলনায় অনেক ভারী।তাই সূর্যের স্হানকালের বক্রতাও পৃথিবীর তুমনায় শক্তিশালী।
তাই পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে।আবার পৃথিবীর স্হানকালের বক্রতা চাঁদের তুলনায় বেশি হওয়ায় চাঁদও পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘোরে।অর্থ্যাৎ মহাকাশে স্হানকালের বক্রতার ক্ষমতার পার্থক্যের জন্যই এক বস্তু অন্য বস্তুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

ভাইঃওহ বুঝেছি।আকাশের ঐ x ও y তারা দুইটির স্হানকালের বক্রতার শক্তি হয়তো খুব কাছাকাছি।তাই একবার x,y কে আবার y,x কে প্রদক্ষিন করছে।
আমিঃহমম
মহাকাশে কোন বস্তু যদি অনেক শক্তি শালী বক্রতা তৈরী করতে পারে,তবে কোনকিছু এর মধ্যে ধুকে গেলে আর বের হতে পারেনা। যেমন :ব্লাকহোলের অনেক শক্তিশালী বক্রতার জন্য এর কাছ থেকে আলোও বের হতে পারে না।
ভাইঃস্হানকাল যদি বেকে যাই,তবে তো সময়ও বেকে যাবে।এটা কেমন??
আমিঃমহাকাশের বিভিন্ন স্হানে বিভিন্ন বস্তুর ভিন্ন স্হানকালের জন্য জন্য সময়ের গতিও ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় আলাদাভাবে গতিশীল থাকে।
এমনকি যে আলো সবসময় সরলপথে চলে,সেটাও স্হানকাকের প্রভাবে বাকা পথে চলতে বাধ্য হয়।সেই জন্যই মহাকাশে কোন বস্তুর সঠিক অবস্হান নির্ণয়ে সমস্যা হয়।
ভাইঃহমম বুঝলাম।
আমিঃআচ্ছা আজ আর নয়।সকাল প্রায় হতে চলল।একটু ঘুমাতে হবে।নয়লে ৯.৩০ মিনিটের ক্লাসে উপস্হিত হতে পারব না।

বি.দ্রঃরাতের ঘটনাটি কাল্পনিক।সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্বের বিষয়টি আানবার জন্য গল্পটি ব্যবহৃত হয়েছে।

সাধারন আপেক্ষিক তত্ত্বের পরিসর বিশাল।যারা এতোটুকু পড়েছেন তাদের বেসিক হয়ে গেল এই তত্ত্ব নিয়ে। পরের পর্ব লিখব যদি আপনারা চান।লেখাটি পড়বার জন্য ধন্যবাদ।

লেখক অনিক কুমার এবং এডিটর মাইন উদ্দিন
 আপনার লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন
basrimyin@gmail.com 

Friday, April 20, 2018

TIME TRAVEL(পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে সময় ভ্রমণ)


পদার্থবিজ্ঞানের আলোকে সময় ভ্রমণ

সময় ভ্রমণ নিয়ে আমাদের কল্পনা কম নয়। এই ধারণাটাই আমাদের গায়ের লোম খাড়া করে দেয়। এই সময় ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা করার মত অনেক দিক আছে। সম্ভব কিনা, সম্ভব হলে কোন দিকে (অতীতে নাকি ভবিষ্যতে) বা কীভাবে, ইত্যাদি। আমরা এখনো সময় ভ্রমণ সম্ভব করতে পারিনি। তবে এটা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত কল্পনা করতে পারছি ঠিকই। আসুন, ঠিক তেমন কিছু দিক নিয়ে আমরা আলোচনা করি।

"TIME TRAVEL ISN'T IMPOSSIBLE!
But we have to be much careful about it's consequences!"(MYIN)

পিতামহ স্ববিরোধ (Grandfather Paradox)


স্টিফেন হকিং একবার বলেছিলেন, ভবিষ্যৎ থেকে যদি কোনো আগন্তুক এসে থাকে, তবে তারা এখন কোথায়? হ্যাঁ, হকিং সময় ভ্রমণের কথাই বলেছেন, তবে একটু ভিন্নভাবে। ভবিষ্যৎ থেকে অতীতে, অর্থাৎ ভবিষ্যৎ থেকে আমাদের সময়ে আসার কথা বলা হচ্ছে, কারণ ভবিষ্যতের মানুষ টাইম মেশিন আবিষ্কার করে ফেলতেও পারে। অতীতে যে সেরকম কিছু হয়নি সেটা আমরা বেশ ভালোই জানি। তাই অতীতের মানুষগুলোর এখন তথা আমাদের এই সময়ে ভ্রমণ করতে আসার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করে দেয়া যায়। তবে বিজ্ঞানীরা কিন্তু অতীতের তুলনায় ভবিষ্যতে যাওয়ার বিষয়টিকে বেশি প্রাধান্য দেন। তার একটি কারণ হচ্ছে পিতামহ স্ববিরোধ। এই স্ববিরোধে বলা হচ্ছে, কেউ যদি অতীতে গিয়ে তার পিতা জন্মাবার আগেই পিতামহকে হত্যা করে, তবে তো সব হিসাব-নিকাশই ওলটপালট হয়ে যাবে। বাবার বংশগতির ধারক সেই কেউ একজন তাহলে পৃথিবীতে এলো কীভাবে?

পিতামহ স্ববিরোধ আসলে কোনো সমস্যাই না, যদি মহাবিশ্বের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনাগুলোকে পূর্বনির্ধারিত ও অপরিবর্তনশীল ধরা হয়। বিষয়টিকে একটু বুঝিয়ে বলা যাক।

দেড় ঘণ্টার একটি সিনেমার কথাই ধরুন। আপনি সিনেমাটি দেখুন আর না-ই দেখুন, সিনেমার দৃশ্যের কোথাও কোনো পরিবর্তন হবে না। ধারণ করার পর যেভাবে চূড়ান্ত সম্পাদনা করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই থাকবে। অর্থাৎ আপনি কোনোভাবেই সিনেমার উপর আপনার নিজের প্রভাব খাটাতে পারবেন না।

সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। আপনি অতীতে গিয়েও অবশ্যম্ভাবী কোনো ঘটনাকে পরিবর্তন করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না। যা ঘটার, তা ঘটবেই। আপনি হয়তো অতীতে গিয়ে আপনার পিতামহের সাথে কোনো এক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়লেন এবং আপনার পকেটে রাখা রিভলবারটি বের করে ট্রিগারও চাপলেন। কিন্তু হয়তো দেখা যাবে, রিভলবারের গুলি শেষ হয়ে গিয়েছে অথবা কোনো এক অজানা কারণে রিভলবারটি ঠিকমতো কাজ করছে না। অর্থাৎ আপনার পিতামহকে বাঁচানোর সকল বন্দোবস্ত যেন আগে থেকেই হয়ে রয়েছে!

আলোর চেয়ে বেশি বেগে ছোটার মাধ্যমে সময় ভ্রমণ

তাছাড়া আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বে আলোর বেগ একটি সীমা নির্দেশ করে, যে সীমানাটাকে অতিক্রম করতে পারলে হয়তো সময়ের পেছনের দিকে যাওয়া সম্ভবপর হতে পারে। কিন্তু আজ অব্দি সে রকম কোনো সম্ভাবনা দেখা যায়নি। আবার বিশেষ আপেক্ষিকতা তত্ত্বেরই আরেকটি সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে ভ্রমণ করে যদি ভ্রমণকারীর সময়ের গতিকে ধীর করে দেয়া যায়। ফলে আলোর বেগের কাছাকাছি বেগে সোজা মহাকাশের দিকে নভোযানকে চালিত করে যদি পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসা যায়, তবে পৃথিবীতে অতি অগ্রসরমান এক জীবন ব্যবস্থা দেখা যেতে পারে। নভোচারীর সম্পূর্ণ ভ্রমণের সময়কাল তার নিজের ঘড়ি অনুযায়ী যদি কয়েক দশক হয়, তবে পৃথিবীতে হয়তো শত বছর পার হয়ে যাবে। নভোচারী তার মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায় পৃথিবীতে ফিরে তার রেখে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থাকেই আশা করবে, যদিও সে দেখবে অন্য এক পৃথিবীকে। এটাকে “ভবিষ্যতে গমন” ছাড়া আর কীই বা বলা যেতে পারে?

মহাকর্ষের মাধ্যমে সময় ভ্রমণ

সময়ের সাথে মহাকর্ষের একটা দড়ি টানাটানির মত সম্পর্ক। মহাকর্ষ যত বেশি, সময় তত ধীরে চলবে। আর মহাকর্ষ কম হলে সময় চলবে অপেক্ষাকৃত দ্রুত। তাই, কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি কোনো জায়গায়, যেখানে মহাকর্ষ অনেক বেশি, সেখানে অবস্থান করলে দেখবেন পৃথিবীর চেয়ে আপনার সময় অনেক ধীরে কেটেছে। ধরুন, আপনার কাছে মনে হচ্ছে একদিন পেরিয়েছে। ওদিকে পৃথিবীতে চলে গেছে শত বছর। অর্থাৎ, কৃষ্ণগহ্বরের কাছাকাছি গিয়েও সময় ভ্রমণের অনুরূপ অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব। এটা মূলত মহাকর্ষজনিত সময় প্রসারণের ফল।

সমান্তরাল মহাবিশ্বে ভ্রমণের মাধ্যমে সময় ভ্রমণ


চিরায়ত পদার্থবিদ্যা এমন যে, কিছু সূত্র, স্বীকার্য আর গাণিতিক নিয়মের অধীনে কোনো একটি ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, অথবা ঘটনার পূর্ববর্তী অবস্থাটি কী ছিলো, সেটা নিশ্চিতভাবে বলে দেয়া যায়। অর্থাৎ চিরায়ত পদার্থবিদ্যার জগত হচ্ছে নিশ্চয়তার জগত।
আমাদের শরীর অসংখ্য কণার সমষ্টি। চিরায়ত পদার্থবিদ্যা অনুসারে এসকল কণার প্রতিটি চলাচলও পদার্থবিদ্যার নিয়ম অনুসারে পূর্বনির্ধারিত। ফলে আমাদের নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছাকেও অনেক সময় জলাঞ্জলি দিতে হয়। অপরদিকে কোয়ান্টাম তত্ত্বে, বিশেষ করে হাইজেনবার্গের অনিশ্চয়তার নীতি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটাই পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখানে প্রকৃতি এবং পর্যবেক্ষক – উভয়ই একটি সিস্টেমের অংশ এবং এদেরকে আলাদা করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। ফলে পূর্বনির্ধারণ বা কঠোরভাবে অপরিবর্তনশীলতার কোনো সুযোগ এখানে নেই।
কোয়ান্টাম তত্ত্বানুসারে বহু মহাবিশ্বের (Multi universe) সম্ভাবনাকে পুরোপুরি বাতিল করে দেয়া যায় না। বহু মহাবিশ্বের ধারণা থেকেও অতীত ভ্রমণের যৌক্তিকতা তুলে ধরা যায়। এক্ষেত্রে আপনি অতীতে গেলেন এবং আপনার পিতামহকে হত্যাও করলেন – কোনো সমস্যা নেই। তবে ঘটনাটি ঘটবে কোনো এক সমান্তরাল মহাবিশ্বে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আপনাকে শুধু সময় ভ্রমণ করলেই চলবে না, স্থানকেও অতিক্রম করতে হবে। আপনি অন্য একটি মহাবিশ্বে গিয়ে আপনার পিতামহের মিরর ইমেজকে হত্যা করলে আপনার পিতার মাধ্যমে সেই মহাবিশ্বে আপনার জন্ম হবে না। তবে সেখানেও আপনার অস্তিত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ থেকে আগত এক ঘাতক হিসেবে, যিনি অমুক নামের এক লোককে হত্যা করেছেন।

স্থান-কালকে বাঁকিয়ে দেয়া সিলিন্ডারের সাহায্যে সময় ভ্রমণ


১৯৩৭ সালে স্কটিশ পদার্থবিদ ভ্যান স্টকাস টাইম মেশিন সম্পর্কিত একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বকে ব্যবহার করেন। তিনি ঘনত্বপূর্ণ ও অসীম দূরত্ব পর্যন্ত বিস্তৃত একটি ঘূর্ণায়মান (এর মূল অক্ষ সাপেক্ষে) সিলিন্ডার কল্পনা করেছিলেন, যেটা ঘূর্ণনের সাথে এর আশপাশের স্থান-কালকেও এর সাথে ঘুরতে বাধ্য করবে। ঐ ঘূর্ণায়মান কালের মধ্যে প্রবেশ করে অতীতে চলে যাওয়া সম্ভব। স্টকাসের মতে, এভাবে যাত্রা শুরুর আগেই যাত্রা শুরুর পূর্বের সময়ে চলে যাওয়া সম্ভব হবে। চিন্তাটি ছিলো কাল্পনিক, যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক।

কীটগহ্বর (Worm Hole) এর মাধ্যমে সময় ভ্রমণ

সময় ভ্রমণের আরো একটি তাত্ত্বিক সম্ভাবনা হচ্ছে ওয়ার্মহোল বা কীটগহ্বর। ওয়ার্মহোল হচ্ছে অতি অল্প সময়ে মহাজাগতিক দূরত্ব অতিক্রম করার এক তাত্ত্বিক সম্ভাবনা, যেটার কথা আইনস্টাইন ও নাথান রোজেন ১৯৩৫ সালে প্রথম বলেন, এবং যেটা পরিচিত ছিলো আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ নামে।
পঞ্চাশের দশকে বিশিষ্ট পদার্থবিদ জন হুইলার ওয়ার্মহোল নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করেন এবং “ওয়ার্মহোল” শব্দটির উৎপত্তি ঘটান। ওয়ার্মহোলকে যদিও আমরা মহাকাশ ভ্রমণের সংক্ষিপ্ততম পথ বলেই জানি, তবুও কিপ থর্নের গবেষণার মাধ্যমে সময় ভ্রমণের বিষয়টিও উঠে আসে। কার্ল সেগান তার “কন্ট্যাক্ট” বইয়ের কাজ করার সময় লেখার প্রয়োজনেই বন্ধু কিপ থর্নের সাথে যোগাযোগ করেন এবং ওয়ার্মহোল নিয়ে আরো বিস্তারিত গবেষণা করার অনুরোধ করেন। তখন আইনস্টাইনের তত্ত্বে বিশেষজ্ঞ যে কয়জন বিজ্ঞানী ছিলেন, কিপ থর্ন ছিলেন তাদের একজন। সেগানের অনুরোধে থর্ন ওয়ার্মহোল নিয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সব তথ্য বের করে আনতে সক্ষম হন। তবে এই ওয়ার্মহোল ঠিক আমরা যেরকম চিন্তা করি সেরকম অর্থাৎ এর প্রবেশমুখ ও বহির্মুখ পরস্পরের সাপেক্ষে স্থির হলে চলবে না।

ওয়ার্মহোলের মাধ্যমে সময় ভ্রমণ

কেননা এক্ষেত্রে সময় একই হারে চলবে। কিন্তু যদি বহির্মুখ সাপেক্ষে প্রবেশমুখকে গতিশীল করা যায় (এবং এতে একটি সময় পার্থক্য তৈরি হবে) তবে সময় ভ্রমণ সম্ভব হতে পারে। ওয়ার্মহোল একটি তাত্ত্বিক বিষয়। বাস্তবে যদি ওয়ার্মহোল থাকেও, তবুও কোয়ান্টাম অস্থিরতার জন্য সেটা টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে উঠবে। কিপ থর্নসহ অনেক বিজ্ঞানী ওয়ার্মহোলের স্থিতি প্রদানের জন্য উত্তেজক পদার্থের কথা বলেন, যেগুলোর ঋণাত্মক শক্তি থাকায় মহাকর্ষ বিরোধী ক্রিয়াও আছে। হিসাব করে দেখা গেছে, ১ মিটার চওড়া একটি ওয়ার্মহোলকে স্থির রাখার জন্য সূর্যের ১০ বিলিয়ন বছরেরও অধিক সময়ে উৎপাদিত শক্তির সমান ঋণাত্মক শক্তির যোগান দিতে হবে!

উপসংহার

উপরের আলোচনা পাঠকদের কাছে বাস্তবতাবর্জিত কল্পকাহিনী মনে হতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক। কেননা, সময় ভ্রমণ করার মতো প্রযুক্তির আশপাশে আমরা এখনও পৌঁছুতে পারিনি। তবে আমরা যখন সময় ভ্রমণ নিয়ে কথা বলি, তখন মূলত সুপ্রতিষ্ঠিত কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে সামনে রেখেই সেটা বলে থাকি। ফলে সময় ভ্রমণ সংক্রান্ত আলোচনা বিজ্ঞানের বাইরের কোনো বিষয় নয়। সময়কে যেহেতু বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত করা গেছে সেহেতু সময় ভ্রমণ বিষয়টাও আপনা আপনিই বিজ্ঞানের আওতায় চলে আসে।


সময় ভ্রমণ আদৌ সম্ভবপর হবে কীনা অথবা হলেও কবে হবে, সেটা আমাদের পক্ষে এখনই জানা সম্ভব নয়। তবে সময় ভ্রমণ তত্ত্বীয় বিজ্ঞানের অংশ হওয়ায়, এটা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত থাকবে। সুদূর ভবিষ্যৎ থেকে হয়তো কোনো আগন্তুক নিভৃতে অতীত ভ্রমণে এসেছিলেনও, তবে সেটা আমাদের সময়ে নয়, আরো বহু বহু পূর্বের কোনো এক সময়ে, যার কোনো প্রমাণ আমাদের হাতে নেই।

Writer:Md Mahamud mahamudulislam2000@gmail.com
Editor:MYIN
basrimyin@gmail.com

Thursday, April 12, 2018

MY HYPOTHESIS IS NOT EXACTLY POSSIBLE!😞

(EXPLORING THE COSMIC MONSTER)

Today I realize the selfishness of our father singularity(From where we are-king) and mother infinity(Mysterious queen of universe).

♦Dew to Infinite density,infinite gravity, infinite curvature and dew to singularity black hole will remain as a mystery. We won't be able to go through it.It's impossible 100%.
Oh my God, infinite density!
I still can't imagine it! How an object with infinite density can sustain in space.😱😱
You will be able to go near a black hole but not through it!
In my previous post I have shown you that,we can go through black hole in a magnetic space through magnetic field line but impossible in a normal gravitational space.But after reading more about black hole I find so many problems(Gravity,Density,Temperature, Singularity,Radiation,Annihilation etc) which won't allow us to explore through it.
At last I wanna say you that,
YOU CAN NEVER EXPLORE THROUGH A BLACK HOLE EXCEPT EXPLORING NEAR IT FROM A MAGNETIC SPACE NOT GRAVITATIONAL SPACE!!!!!
(John M,John W, SW Hawking)
Thanks a lot to you Sir, your idea helped me to reform my idea.

Myin
The Space Boy
Aspiring Astronaut

Exploring Inside A Hole-(BLACK HOLE)

ব্ল্যাকহোলের ভিতরে ভ্রমণ কী সম্ভব?
আমার একাটা আইডিয়া আছে......
এবার পড় এবং তোমাদের মন্তব্য পড়ার অপেক্ষায় থাকলাম...

মূল পোস্টটা পড়ুন

আপনাদের অনেকেই আমার ব্ল্যাক হোলের পোস্ট (EXPLORING THE COSMIC MONSTER)পান নাই বা বুঝেননাই।তাই বিষয়টা আরেকবার আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই.......
আপনাদের প্রথমে  ম্যাগনেটিক ফিল্ড ও ম্যাগনেটিক ফিল্ড লাইন বা বলরেখার একটা অদ্ভুত বৈশিষ্ট সম্পর্কে বলি কারণ এইটার ভিত্তিতে আমি ব্ল্যাক হোলকে ভ্রমণ করার একটা উপায় পেয়েছি...
কোন একটি শক্তিশালী Magnetic Field  এর মধ্যে যে বলরেখাগুলো থাকে সেগুলোর উপর Magnetic Field এর Magnetic Force কাজ করে না ফলে কোন আহিত ক্ণা(Induced Particle)যদি ওই বলরেখা বরাবর যেকোনো বেগে চলতে থাকে তবে ওই Induced Particle এর উপর Magnetic Field এর কোন Magnetic Force কাজ করবে না এবং ওই Induced Particle টি সহজেই Magnetic Field অতিক্রম করবে!

আশাকরি বুঝছেন,এবারে আমার ধারণাটা বলি.....

প্রথমে আমি একটা Black Hole এর নিকট নিরাপদ দূরত্তে থেকে একটা অনেক বড় বৃত্তাকার Artificial Electromagnet এর ককক্ষপথ বানাব। এই Magnet থেকে অনেক শক্তিশালী Magnetic Field তৈরি হবে যা Magnetic Force দ্বারা কার্যকর থাকবে এবং এই Field এর মধ্যে Magnetic Force Line বা বলরেখার সৃষ্টি হবে।এবার আমি একটি আহিত Space Ship (অথ্যাৎ মহাকাশযানটি চার্জিত হতে হবে) কে Magnetic Field এর যেকোন Magnetic Force/Field Line এ স্থাপন করব।এবার আমি যদি Space ship launch করি এবং Black Hole এর Event Horizon এর একদম নিকটে চলে যায় তাও Black Hole এর Gravitational Pull কাজ করতে পারবে না কারণ Magnetic Field এর অতি শক্তিশালী Electromagnetic Force এর নিকট Black Hole এর মহাকর্ষ বল নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এর কারণ হল Black Hole টি তখন Gravitational Space এ নেই বরং Black Hole টি তখন Magnetic Space এ আছে।

"এটা আমার ধারণা তাই বিবেচনার ভার আপনাদের উপর দিলাম.....
তবে এইটা বলে রাখি,
আমার নিয়মে আপনি শুধু Event Horizon পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন কারণ Magnetic Field Line আপনাকে Magnetic Field এর উপর সকল বল থেকে হেফাজতে রাখবে...... আর আপনি যদি Black Hole এর ভিতরেই যেতে চান তবে আপনি যেতে পারবেন কিন্তু মানুষ হিসেবে না Quantum Charged Particle হিসেবে এবং আপনি Black Hole এর Infinite Curvature এর মধ্যে দিয়ে Another Universe ও পৌছে যেতে পারবেন।ভেবে দেখুন যাবেন কিনা!!!☺"


Thanks a lot for reading
Myin
Aspiring Astronaut


A JOURNEY THROUGH BLACK HOLE BY A STRONG MAGNETIC FIELD LINE!

A JOURNEY THROUGH BLACK HOLE BY A STRONG MAGNETIC FIELD LINE!!!!!!!!!!!IT'S A HYPOREALISTIC IDEA OF MINE.(EXPLORING THE COSMIC MONSTER)P-1


♣Wanna explore through a black hole to observe it's beauty inside it's blackness?
If yes then explore my thinking in this post....
 Please I need your zeal and alacrity and informative comments. Hope you will enjoy it and will unearth a new notion of exploring black hole!
Let me launch my hypothesis...... ✈✈✈✈

♦I think all of you are  known about the underlying concept of Magnetic Force,Magnetic Field, Magnetic field line and Magnetic Flux etc.
We know that,
Magnetic field lines have an peculiar but obligate prominence of carrying an induced particle through a magnetic field by saving that particle from strong Magnetic force! and this is the main linchpin principle by which I got  the idea of my hypothesis.☺
♦Now you have to envision some  inconceivable prospect from my writing because all my conditions are very far from us to touch them to realify our journey through black hole!

MY CONDITIONS :

♣1.Give me a big space near a black hole where we will create an artificial strong magnetic field which will generate strong magnetic field line and magnetic force.
♣2.Whole Earth is an induced particle.Isn't it?Our planet is a big container of charged particle.So it's an induced particle which is a great opportunity for us to carry it by magnetic field line.
♣3.Now I need super booster which will be possible to carry whole Earth to that magnetic field space.
♣4.Now in this magnetic field space(Not normal space),
>Gravitational force is very weak.
>Magnetic force is very strong.
>Black will no more work.
>Magnetic Field line will save us from the strong gravitational attraction of black hole.
>Magnetic force won't work in magnetic field line.
♣5.Now combine all process and be ready for exploring the core of black hole if you can fill up all this conditions.

EXPLORATION PROCESS:


When we will be ready to execute all my given conditions, I am sure that time black hole can't act like a black cosmic monster and we will explore it's huge black stomach.
At first, when our new artificial space of magnetic field is ready then we will transplant our planet in that space with a lot of super boosters.After that we will place Earth in a magnetic field line and magnetic field line will accept it as it's an induced particle.At last we will launch our planet directly to the black hole.Black hole won't attract us because it's very weak in this artificial magnetic space.Finally we will go inside that black body and will be disappeared and exolore the hidden mystery of black hole and after some time we will come out of it safely without any harm.
Maybe so many mysterious event will happen with us.Time dilation will be the most mysterious among them.I can't wait anymore to observe the beauty inside the blackness of black hole.In this way we will defeat the strong black king and it will be the most extreme  revolutionary exploration for us.Nothing won't be able to stop us maybe if we can unearth the hidden super science of black hole.
(INSHAALLAH)
🌍🌍🌍🌍🌍🌍
♦Thanks a lot for reading.
Hope you enjoyed it and understand what I tried to meant.Now give me your valuable, logical,informative comments.
☺☺
(Myin)
[>1-1<]
The Follower Of Spacetime.